ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন শ্রমিক সংগঠক আনাস কাজিব

Printed Edition

প্যারিস প্রতিনিধি

ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন রেলকর্মী ও শ্রমিক সংগঠক আনাস কাজিব। সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রটস্কিস্ট সংগঠন রেভল্যুশিওঁ পারমানঁতের পক্ষ থেকে নিজের প্রার্থিতার কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই রেলকর্মী।

ভিডিও বার্তায় কাজিব বলেন, এটি হবে ‘একটি শ্রমিকভিত্তিক, কমিউনিস্ট এবং বিপ্লবী প্রার্থিতা’- যা সরাসরি শ্রমিক শ্রেণীর অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও দাবি থেকে উঠে আসবে। ফরাসি রাজনীতিতে প্রচলিত বামধারার দলগুলো থেকে নিজেকে স্পষ্টভাবে আলাদা করতেই এই অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

প্যারিসের উপকণ্ঠে অভিবাসী শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচিত সার্সেলের বাসিন্দা কাজিব শ্রমিক ইউনিয়ন সুদ রেলের সক্রিয় সদস্য। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনপ্রিয় ফরাসি টেলিভিশন ও রেডিও টক শো ‘লে গ্রঁদ গ্যুল’-এ নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একসময় তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি নিজেকে বর্ণবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও উপনিবেশবাদ-বিরোধী চিন্তাধারার সমর্থক বলে পরিচয় দেন এবং ফরাসি রাষ্ট্রে শ্রমিক ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার।

তবে কাজিবের এই প্রার্থিতার ঘোষণা এসেছে গুরুতর আইনি জটিলতার মধ্যে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইল আক্রমণের পর ফিলিস্তিনি ‘প্রতিরোধকে সমর্থন’ জানিয়ে বক্তব্য দেয়ায় তার বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের’ অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া চলমান। আগামী ২৫ জুন এই মামলার শুনানি নির্ধারিত রয়েছে। কাজিব অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক দমননীতি আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, এটি শ্রমিক ও সামাজিক আন্দোলনকে দুর্বল করার সুচিন্তিত প্রচেষ্টা।

২০২২ সালেও প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কাজিব। কিন্তু ফ্রান্সের সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ১৬০ জন নির্বাচিত মেয়রের ‘পারঁনাজ’ বা আনুষ্ঠানিক সমর্থন সংগ্রহ করতে না পারায় তিনি তখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এবার তার সংগঠন জানাচ্ছে, পরিস্থিতি বদলেছে- এরই মধ্যে বহু স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধির সমর্থন পাওয়া গেছে এবং দেশজুড়ে প্রচারণা জোরদার হচ্ছে।

রেভল্যুশিওঁ পারমানঁত ২০২২ সালে নুভো পার্তি অঁতি-ক্যাপিতালিস্ত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত হয়েছিল। দলটির অভিযোগ ছিল, সাবেক সংগঠনের লা ফ্রঁস আনসুমিজের সাথে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা শ্রমিক আন্দোলনের স্বাধীন চরিত্রকে ক্ষুণœ করছে।

ফ্রান্সের অতিবাম রাজনীতিতে কাজিবের পাশাপাশি লুত ওভ্রিয়ের প্রার্থী নাতালি আর্তোও এরই মধ্যে প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই ট্রটস্কিস্ট ধারার মধ্যে আদর্শগত ও কৌশলগত বিভাজন বজায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঁ-লুক মেলঁশোঁর উত্থানের পর অতিবাম ভোটব্যাংক আরো ছোট ও বিভক্ত হয়ে গেছে, ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার এই ধারার দলগুলোর জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কাজিবের এই প্রার্থিতা ফরাসি রাজনীতিতে শ্রমিক শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব, অভিবাসী রাজনীতি এবং অতিবাম আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। এটি একদিকে যেমন সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তেমনি সীমিত প্রভাবসম্পন্ন ফরাসি অতিবাম ধারার পুনরায় সংগঠিত হওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।