নিজস্ব প্রতিবেদক
হামের টিকার মজুদ থাকার পরও ঢাকার বাইরে পৌঁছানো যায়নি ঠুনকো কারণে। অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা এ জন্য দায়ী। ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব বলেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত এই বেঠকটি আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: কামরুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। বিএইচআরএফ’র সভাপতি প্রতীক ইজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিএইচআরএফ’র সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ।
মো: কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হামের টিকা সংগ্রহ এবং এ সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা বিষয়টি জানতে একটি তদন্ত করা হচ্ছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে এখন ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে। প্রয়োজনে আরো বাড়ানো হবে।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে জন্মের পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধ পান না করা শিশু ও অপুষ্টির শিকার শিশুরা বেশি হামে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে হামে আক্রান্ত হলে শিশুর শরীরে থাকা ভিটামিন ‘এ’ নষ্ট করে দেয়, ফলে শিশু আরো বেশি জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং এক সময় কিছু শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, টিকার ঘাটতির কথা জানানোর পর টিকা কেনা হয়। আর সেই টিকার প্রথম চালান আসে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। ওই সময় ২২ লাখ টিকা আসে। ওই টিকার দ্বিতীয় চালান আসে গত ৫ মে। ওই টিকা ঢাকার বাইরে পাঠানো যায়নি, মজুদ করে রাখা হয়। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: আব্দুস সবুর বলেন, মাঠে টিকা নাই সেটা সত্যি। কিন্তু ইপিআইতে টিকার মজুদ ছিল। তেলের পয়সা নেই বলে ঢাকার বাইরে টিকা পাঠানো যায়নি। আবার জেলা ও উপজেলা থেকে যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা নিয়ে যায় তাদের টাকা দেয়া হয়নি। ফলে তারা কাজ করেনি। এসব অব্যবস্থাপনার কারণে টিকা না পৌঁছানোয় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, সরকার যে চেষ্টা করছে সেটা জোড়াতালি। করোনার সময়েও এমনটা দেখেছি। সাপ্লাই চেইনে যে কর্মীরা আছে তাদের স্থায়ী না করায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনবার আন্দোলন করতে দেখেছি তাদের। সিস্টেমে যেখানে গ্যাপ আছে সেটা দূর করতে হবে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দন্ত অনুষদের ডিন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা: সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, শিশুদের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতি দূর করা প্রয়োজন। সেজন্য স্কুল প্রোগ্রামে পুষ্টিকর খাবার দেয়ার চিন্তা করা যেতে পারে। অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, হামে যে মৃত্যুগুলো হয়েছে সেগুলোর অডটি করে রাখতে হবে। হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে হলে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকা দিতে হবে। ড্যাবের মহাসচিব ডা: জহিরুল হক শাকিল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরে এখনো পতিত স্বৈরাচারের দোষররা বসে আছে। এরা বর্তমান সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না।
এনসিপির চিকিৎসকদের সংগঠনের মুখ্য সমন্বয় ডা: হুমাউন কবির হিমু বলেন, এখন ২৪ দিনের শিশুও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে হামের বিষয়টি ম্যানেজ করতে কিন্তু দায় চাপিয়ে দিলে চলবে না।



