ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ কেন এবারের টি-২০ বিশ^কাপে খেলতে গেল না এ নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগ থেকেই স্বোচ্চার ছিলেন আমিনুল হক। পরে তিনি যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হন। বাংলাদেশ সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর এ নিয়ে আরো কঠোর অবস্থানে জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার। এবার তিনি ঘোষণা দেন বাংলাদেশ দল কেন বিশ^কাপ খেলতে গেল না এ নিয়ে তদন্ত করা হবে। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়েও তদন্তের কথা জানান। সেই মোতাবেক তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়েছে। এদিকে পরশু রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিসিবির নির্বাচন নিয়ে সরকারের এই তদন্ত কমিটি গঠনকে ভালোভাবে নিচ্ছে না আইসিসি। নির্বাচিত কমিটির ওপর সরকারের হস্তক্ষেপে শাস্তির শঙ্কা জাগাচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে নির্বাচনের সময় নানা কথা উঠে। কিছু অন্যায় যে হয় না এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এরপরই যখন সেখানে সরকারি হস্তক্ষেপ হয় তখন আসে নিষেধাজ্ঞা। ২০০২ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়েছিল তখনকার সরকার। ফলে তাৎক্ষণিক ফিফার নিষেধাজ্ঞা। পরে অবশ্য সেই নির্বাচিত কমিটিকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয় বাংলাদেশের ফুটবল। নিশ্চিত ওই নির্বাচনের সময় বেশ কিছু অনিয়ম করেছিল তখনকার বাফুফের দায়িত্বশীলরা। এতে ক্ষুব্ধ হয় সেই সময়ের সরকার। কিন্তু নিয়ম না মেনে নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেয়ার পরই শাস্তি। পরে অবশ্য সব নিয়ম মেনেই করা হয়েছিল।
এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে কেন্দ্র করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তথা বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ম মেনেই করতে হবে সব কিছু। কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির নিয়ন্ত্রণাধীন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সে কথাই উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, সম্প্রতি এনএসসি (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) একটি গেজেট প্রকাশ করেছে। যেখানে গত বিসিবির নির্বাচন বিষয়ে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। বিসিবির মতে, তারা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবং সঠিক নিয়ম মেনেই নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। দায়িত্ব নেয়ার পরও তাদের সব কার্যক্রম চলছে সঠিক নিয়ম মেনেই। এমন পরিস্থিতিতে আকস্মিৎক এই তদন্ত কমিটি বিসিবির স্বাধীনতা ও স্থিতিশীলতাকে করছে প্রশ্ন বিদ্ধ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিসিবি আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গ্লোভাল গর্ভন্যান্স অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আইসিসির নিয়মানুযায়ী কোনো নির্বাচিত বোর্ডের কাজে তৃতীয় পক্ষ বা সরকারি হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ আইসিসির গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স নীতি মালার আওতায় শাস্তির মুখে ফেলতে পারে। বিসিবি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আইসিসির সাথে কথা বলেছে। সেখানে ইঙ্গিত মিলেছে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বোর্ডে যেকোনো হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশের ক্রিকেটের স্বার্থেই এ নিয়ে কথা বলতে চায় বোর্ড। সে সাথে এই গেজেট প্রকাশের উদ্দেশ্য এবং এর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে তারা এনএসসির কাছেও ব্যাখ্যা চাইবে বলে জানিয়েছে বিসিবি। বিসিবি একই সাথে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে আরো অনুরোধ করেছে, বিষয়টি যেন এমনভাবে সমাধান করা হয়, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতি নিশ্চিত করবে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থানও সুরক্ষিত থাকবে।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। মিরপুর বাংলা কলেজে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর। এটি আপনারা সবাই জানেন, এগুলো নতুন করে আসলে বলার কিছু নেই। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসবে সঠিক বিষয়টি। যারা বিগত সময়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সাথেও তদন্ত কমিটি কথা বলবে। বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের যারা রয়েছেন তাদের সাথেও কথা বলবে। পাশাপাশি যারা অভিযোগ দিয়েছেন তাদের সাথেও কথা বলবে।’
কাউন্সিলর বিতর্কে আরো বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে জানি যে, যখন বিগত নির্বাচনের সময় ডিসিরা একবার অলরেডি কাউন্সিলরশিপ পাঠিয়েছিলেন, পরে আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বুলবুল ভাইয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তারা আবার দ্বিতীয়বার কাউন্সিলর পাঠিয়েছেন। এটি তো একদম দৃশ্যমান সত্য ঘটনা। তবে আমরা আইসিসির সাথে কথা বলেই সব সিদ্ধান্ত নেব।’
সম্প্রতি ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) দেখা করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে। এ প্রসঙ্গে আমিনুল বলেন, ‘ইতিমধ্যেই মিঠুনের নেতৃত্বে ক্রিকেটারদের একটি দল আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কথাগুলো শুনেছি। আশ্বস্ত করেছি যে কেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে গেলাম না, এই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ পদক্ষেপ নেব।’
জানান,আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাবে আমরা বিশ্বকাপটি খেলতে যেতে পারিনি। কিন্তু কেন এটি হয়েছে সেটিও আসলে তদন্ত করে দেখার বিষয় রয়েছে। আমি আশা করি যে, এই বিষয়গুলো নিয়েও আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। এটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের কাছ থেকে আমি অবশ্যই চাইব।’



