সীমানা বহাল রেখে বগুড়া সিটি করপোরেশনের গেজেট প্রকাশ

চলতি সপ্তাহে প্রশাসক নিয়োগ হতে পারে

Printed Edition

বগুড়া অফিস

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পৌর সভার সীমানা ও ওয়ার্ড সংখ্যা ঠিক রেখে বগুড়া সিটি করপোরেশনের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর ফলে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হলো। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ-সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার , পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্থানীয় সরকার বিভাগ।

গেজেটে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী বর্তমান বগুড়া পৌরসভার বিদ্যমান আয়তন প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার (৬৯.৫৭ বর্গকিলোমিটার ) নিয়ে নতুন এই সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো: শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত গেজেটে নতুন সিটি করপোরেশনের ঘোষণা দিলো সরকার। এর আগে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরকালে সদ্য বিলুপ্ত বগুড়া পৌরসভা কার্যালয় চত্বরে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণা করেন। সরকারি গেজেটের ফলে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত বগুড়া মিউনিসিপ্যালিটি বা পৌরসভার আনুষ্ঠানিক বিলুপ্ত ঘটলো। এটা ছিল দেশের সবচেয়ে বড় পৌরসভা।

উল্লেখ্য, বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে ২০০৬ সালে বগুড়া পৌরসভার আয়তন ১৪ বর্গকিলোমিটার থেকে ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনে সম্প্রসারণ করে সাধারন ওয়ার্ড ১২টি থেকে বৃদ্ধি করে ২১টি উন্নীত করে সিটি করপোরেশন গঠনের পেছনে কাজ করেন আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু পরবর্তিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে না পারায় আর বগুড়া সিটি করপোরেশন হয়নি। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার রংপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন গঠন করলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বগুড়া সিটি করপোরেশন করেনি।

সিটি করপোরেশন গঠনের গেজেট প্রকাশ হলেও প্রশাসক হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। আগামী সপ্তাহে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে সরকারের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এ দিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেতে বিএনপি নেতাদের মধ্যে জোর লবিং শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দলের জন্য ত্যাগ, যোগ্যতা জানান দিয়ে প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক পৌরমেয়র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবার রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুলর ইসলাম, জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির সহসভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন, কেন্দ্রীয় সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শোকরানা, বিএনপি নেতা ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, জয়নাল আবেদীন চাঁন, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ।

কে হতে পারেন প্রথম প্রশাসক তা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বেশির ভাগই কথা বলতে চান না। তবে তাদের অনেকে নিজেদের নেতার কথা বলেন। আবার এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কার কেউ জানেন না বলেও দাবি করেন। তাই কে বসবেন প্রশাসকের বহুল কাক্সিক্ষত সেই চেয়ারে তা দেখতে আরো ক’দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।