কূটনৈতিক প্রতিবেদক
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
গতকাল সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃষ্টির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এটি একটি করুণ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। বৃষ্টির পরিবার যে গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সরকার উপলব্ধি করে। এখানে বৃষ্টির বাবা, মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত আছেন। আমি বৃষ্টির পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং বৃষ্টির আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল বৃষ্টি হত্যার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করছে। সরকার আশা করে বৃষ্টির পরিবার এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার পাবে।
এর আগে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ফ্লোরিডা থেকে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির লাশ ঢাকায় পৌঁছায়। লাশ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বৃষ্টির মা,বাবা, মামাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।
ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। লিমনের লাশ আগেই ঢাকা পৌঁছেছে। এই জোড়া খুনের অভিযোগে লিমনের ২৬ বছর বয়সী রুমমেট হিশাম আবুঘরবেকে গ্রেফতার করেছে ফ্লোরিডা পুলিশ। তাকে আদালতে সপর্দ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দাদা-দাদীর কবরের পাশেই দাফন
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে গিয়ে মুহূর্তেই নিভে গেল জীবনের আলো। তুচ্ছ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে খুন হলো মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। খণ্ডিত লাশ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে নিয়ে এলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদীর কবরের পাশেই দাফন করা হয় বৃষ্টিকে।
বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, এ শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। যেখানে আনন্দঘন পরিবেশের দেশে ফেরার কথা বৃষ্টির, সেখানে লাশ হয়ে ফিরল। মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এভাবে খুন হবে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।



