নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশে হাম ও উপসর্গে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত মারা গেছে দুই শিশু। তারা ঢাকা ও বরিশালে মারা গেছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩৭৭ জন। এর মধ্যে ৫৩ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল এক হাজার ৩২৪ শিশুর।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গে মোট ৪৯৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭০ হাজার ৯৩৬ শিশুর। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৬ হাজার ৮৮৬ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৪৯ শিশুর শরীরে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৫২ হাজার ৮৪১ শিশু।
মমেকে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ঈদের ছুটির মধ্যেও থামছে না ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের হামের ভয়াবহতা। এ সময়ে হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র আড়াই মাসে হাম ও উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩-এ। যা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক অশনি সঙ্কেত।
শনিবার (৩০ মে) সকালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো: মাইনউদ্দিন খান সর্বশেষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র চার মাস। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ওই শিশু ২৩ মে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। অপর শিশুটির বয়স তিন মাস ১৫ দিন, বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায়। ২৫ মে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অন্য দিকে পূর্ববর্তী তথ্যে জানা যায়, নেত্রকোনার পূর্বধলা ও কলমাকান্দা উপজেলা থেকেও দুই শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৭ মাস ও পাঁচ মাস।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ শিশুই হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত ছিল, যা তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
নোয়াখালীতে এক শিশুর মৃত্যু
নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীতে হাম উপসর্গে শুক্রবার সকালে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাাঁড়াল দুইজনে।
জানা গেছে জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পৌরকড়া গ্রামের মো: ওসমানের ছেলে শিশু সাওবানকে (৩) গত ২৪ মে হামের উপসর্গ নিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। তার আগে গত ১৮ মে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে হামে মৃত্যুর সংখা দাঁড়াল দুইজনে।



