যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বন্ড ও অভিবাসী ভিসার সিদ্ধান্ত আজ থেকে কার্যকর

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী (বি-১) ও পর্যটন (বি-২) ভিসার জন্য বন্ড বা জামানত দেয়ার বাধ্যবাধকতা এবং অভিবাসী ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতির আওতায় এ সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভিসা বন্ডের অধীনে বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশকে আনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশীদের জন্য উভয় সিদ্ধান্তই আজ থেকে কার্যকর হবে।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, আজ বুধবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের যেসব নাগরিকের ভিসা (বি-১/বি-২) অনুমোদিত হবে, তাদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হবে। তবে এর আগে ইস্যু করা বৈধ বি-১/বি-২ ভিসাধারীদের জন্য এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

ভিসা আবেদনকারীদের উদ্দেশ্যে দূতাবাস বলেছে, সাক্ষাৎকারের আগে বন্ড পরিশোধ করবেন না। আগাম বন্ড পরিশোধ করলে তা ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট প্রতারণামূলক হতে পারে। সাক্ষাৎকারের আগে পরিশোধ করা কোনো অর্থই ফেরতযোগ্য নয়। ভিসার শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেয়া হবে।

আর অভিবাসী ভিসা সম্পর্কে দূতাবাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের অভিবাসী ভিসা দেয়া আজ থেকে স্থগিত করছে। এ সব দেশের অভিবাসীরা মার্কিন করদাতাদের খরচে সরকারি সহায়তা নেয়ার ক্ষেত্রে সম্মুখসারিতে রয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। পররাষ্ট্র দফতর আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি নির্ধারণ অব্যাহত রাখবে। তবে স্থগিতাদেশ থাকাকালে এ সব দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে ইস্যু করা পাসপোর্টে ভ্রমণকারী যেকোনো নাগরিক বি-১/বি-২ ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলে তাকে অবশ্যই পাঁচ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার মূল্যের বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসার সাক্ষাৎকারের সময় বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। আবেদনকারীকে ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ঢ়ধু.মড়া এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তাবলিতে সম্মত হয়ে অর্থ জমা দিতে হবে, যার লিঙ্ক সরাসরি পাঠানো হবে। এছাড়া আবেদনকারীকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একটি ফর্ম (আই-৩৫২) জমা দিতে হবে।

ভিসা বন্ড জমা দিয়েছেন এমন সব ভিসাধারীকে শর্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত নির্ধারিত বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে। এটি না করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার অস্বীকার করা হতে পারে অথবা প্রস্থান সঠিকভাবে রেকর্ড নাও হতে পারে। নির্ধারিত বিমানবন্দরগুলো হলো, বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওয়াশিংটন ডালস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শিকাগো ওহেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মন্ট্রিল-পিয়ের এলিয়ট ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন বা তার আগে ভিসাধারী যদি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে আসেন এবং তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের রেকর্ডে থাকে অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভিসাধারী যদি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ না করে থাকেন বা ভিসাধারীকে যদি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার দেয়া না হয়, তবে বন্ড বাতিল করে ভিসাধারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেয়া হবে।হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের রেকর্ডে যদি দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন বা যুক্তরাষ্ট্র আদৌ ত্যাগ না করে থেকে গেছেন অথবা কোনো ব্যক্তি যদি আশ্রয় প্রার্থনাসহ ভিসার ধরন পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন, তবে তা ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গের কারণ হবে।

অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, এই দেশগুলোর অভিবাসীরা অগ্রহণযোগ্য হারে মার্কিন করদাতাদের খরচে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে। এ স্থগিতাদেশ ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারে যে, নতুন অভিবাসীরা আমেরিকান জনগণের কাছ থেকে সম্পদ আহরণ করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের মধ্যে কোনো দেশের নাগরিকরা বেশি সরকারি সহায়তা নিচ্ছেন, সম্প্রতি তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম। ‘ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার রেসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন’ শিরোনামের তালিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশী অভিবাসী পরিবারগুলোর ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশই সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে থাকে।

অভিবাসী ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত দীর্ঘ সময়ের জন্য বলবৎ থাকবে বলে সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।