নিজস্ব প্রতিবেদক
দলীয় বিবেচনায় দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, জনগণ মনে করে, এসব নিয়োগে যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে এভাবে দলীয়করণের সংস্কৃতি চালু করা জাতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরো বলেন, গত ১৫ মার্চ দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের ঘটনায় আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছি। তখন আমরা বলেছিলাম, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগ গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে দলীয়করণের অপচেষ্টা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার সেই অগণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা থেকে সরে আসেনি; বরং এখন তা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র। সেখানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেয়া হলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক অ্যাকাডেমিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়। অতীতে দলীয়করণের কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে অস্থিরতা, সেশনজট ও সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছিল, জনগণ আবারো সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর জনগণের প্রত্যাশা হলো দেশে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে, তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পথেই অগ্রসর হচ্ছে। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যন্ত দলীয়করণের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা দেশের গণতন্ত্র, শিক্ষা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অশনিসঙ্কেত।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও অ্যাকাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল। অথচ সরকার তা না করে অগণতান্ত্রিক ও পক্ষপাতদুষ্ট পন্থা অবলম্বন করেছে, যা জাতির সাথে প্রকারান্তরে প্রতারণার শামিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমরা এই দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে আমরা অবিলম্বে এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের দেশ ও জাতিকে সত্য, ন্যায় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পথে পরিচালিত করুন।



