মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান মাছ বাজারে টোল নির্ধারণসংক্রান্ত টেন্ডারের দু’টি রেট চার্টের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সাথে বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট ক্রমিক অনুযায়ী টোল আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো: শফিকুল ইসলাম।
জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও শহরের প্রধান মাছ বাজার ইজারা দেয়ার জন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টেন্ডার আহ্বান করে। তবে টেন্ডার সিডিউলের ৭৬ ও ৭৭ নম্বর ক্রমিকের রেট চার্টে অসামঞ্জস্য এবং অতিরিক্ত টোল আরোপের অভিযোগ তুলে মুন্সীগঞ্জ মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে।
সিডিউল অনুযায়ী, ৭৬ নম্বর ক্রমিকের অধীনে মাছ পাইকারি বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্যের ওপর শতকরা ৪ টাকা এবং ৭৭ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে শতকরা ৩ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়। অন্য দিকে একই সিডিউলের ৭৮ ও ৭৯ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী বড় দোকান বা চাটাই প্রতি ৭ টাকা এবং ছোট দোকান বা চাটাই প্রতি ৫ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে বিক্রির ওপর শতকরা হারে টোল আদায়ের বিধান নেই। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, কাঁচামাল ও তরিতরকারির বড় দোকান প্রতি ১২ টাকা এবং ছোট দোকান প্রতি ১০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে হাঁস-মুরগি বা পাখির খাঁচা প্রতি ১০ টাকা এবং গোশত বিক্রেতার দোকান প্রতি ১২ টাকা টোল ধার্য রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্যের ওপর অতিরিক্ত টোলের বিধান নেই। ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু মাছ ব্যবসায়ীদের ওপরই বিক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত টোল আরোপ করা হয়েছে, যা তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। রিটের শুনানি শেষে আদালত সিডিউলের ৭৬ ও ৭৭ নম্বর রেট চার্টের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে সিডিউলের ৭৮ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী প্রতি খাড়ি মাছের জন্য ৭ টাকা হারে টোল আদায়ের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সচিব আবদুর রব বলেন, আদালতের আদেশ কোর্টের মাধ্যমে পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পৌর প্রশাসক মৌসুমী মাহাবুব জানান, হাইকোর্টের আদেশ এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। আদেশ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



