নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এজন্য বেসরকারি এজেন্সিগুলোর মতো হজ গাইড বা মিডলম্যান নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। অবশ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকেই এ নিয়োগ দেয়া হবে। তাদের উৎসাহ দিতে নগদ প্রণোদনা, টিমে অন্তর্ভুক্তি, হজ পালনের সুযোগ ও পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১১ মে এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে সোয়া এক লাখের বেশি হজযাত্রী যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে কোটা থাকার পরও কাক্সিক্ষত হজযাত্রী পাচ্ছে না সরকার ও বেসরকারি এজেন্সিগুলো। এ ছাড়া বিগত বছরগুলোতে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটার ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ১০ হাজার হজযাত্রী রাখলেও তা পূরণ হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে বেঁচে যাওয়া কোটা বেসরকারি এজেন্সির মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হতো। এবারো মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশী হজ করতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে মাত্র চার হাজার ৫৬৫ জন যাচ্ছেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়। আর বাকি ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন যাচ্ছেন বেসরকারি এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে। অর্থাৎ সরকারি ব্যবস্থাপনার হাজীর চেয়ে বেসরকারি এজেন্সির হাজী ১৬ গুণেরও বেশি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি এজেন্সিগুলোর মধ্যস্বত্বভোগী কিছু লোক থাকে যারা গ্রাম পর্যায়ে যোগাযোগ করে হজযাত্রী সংগ্রহ করে। এতে ওই মধ্যস্বত্বভোগী আর্থিকভাবে কিছু লাভবান হন। এ ছাড়া তারা গাইড হিসেবেও পবিত্র মক্কা-মদিনায় গিয়ে থাকেন। অবশ্য কোনো কোনো সময় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাজীদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় হজযাত্রী কম হয় বলেও তারা জানান।
এ প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ আগামীতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান। এরই প্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে গত ১১ মে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দফতর-সংস্থার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিজস্ব ইউজার আইডিতে হজযাত্রী সংগ্রহের ভিত্তিতে নির্বাচিত হজ গাইডদের সৌদি আরব যাওয়ার সময় আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হবে। ৪০ জন বা তার বেশি হজযাত্রী সংগ্রহ করলে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৩০ থেকে ৩৯ জন সংগ্রহ করলে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, ২০ থেকে ২৯ জন হলে এক লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ২০ জনের কম হলে এক লাখ টাকা প্রণোদনা পাবেন। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিজস্ব আইডিতে ১০০ জনের বেশি হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে পারলে হজ টিমে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
চিঠিতে আরো বলা হয়, সরকারি মাধ্যমে সর্বোচ্চ হজযাত্রী নিবন্ধিত ১৫টি জেলা থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের একজন করে কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বিভিন্ন টিমের সদস্য হিসেবে সৌদি আরবে পাঠানো হবে। তবে কোনো জেলায় ১০০ জনের কম হজযাত্রী থাকলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। কোনো বিভাগ এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে ওই বিভাগের সর্বোচ্চ নিবন্ধিত জেলার একজনকে টিম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলায় কমপক্ষে ৫০ জন হজযাত্রী থাকতে হবে।
চিঠিতে বলা হয়, সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে যারা নিজস্ব ইউজার আইডিতে কমপক্ষে ৩০ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন কিন্তু হজ গাইড বা টিম সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাননি, তারা বিমানভাড়া পরিশোধ সাপেক্ষে হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া ২০২৭ সাল থেকে হজ গাইডদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে অন্তত ১০ জনকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক দেয়া হবে। একইভাবে যারা ৩০ জন বা তার বেশি হজযাত্রী সংগ্রহ করেও হজ গাইড, টিম সদস্য বা হজ পালনের সুযোগ নিতে চান না, তাদেরও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ও সম্মাননা দেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।



