নিজস্ব প্রতিবেদক
এক সিনিয়র সাংবাদিকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের রসিদ পাঠিয়ে হুমকি প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক মোরশাদুর রহমান। গত শুক্রবার সংস্থাটির সাবেক বার্তা সম্পাদক আবুল কালাম মানিককে এ হুমকি দেয়া হয়। ভুক্তভোগী বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কামাল উদ্দিন মজুমদারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো ধরনের প্রতিকার পাননি, বরঞ্চ নতুন করে হয়রানি শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাসস সূত্র ও ঢাকার পল্টন থানায় নথিভুক্ত ডায়েরি থেকে জানা যায়, হুমকিদাতা মোরশাদ একটি ফৌজদারি মামলার আসামি। আবুল কালাম মানিক মামলাটির বাদি যার নম্বর-১২৬৯/২০২৫ পল্টন। বিগত ১৭ মার্চ ২০২৫ মোরশাদের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দিলে মামলাটি দায়ের করা হয়। মোরশাদ সক্রিয় আওয়ামী পরিবারের সদস্য। তার বাবা মতিউর রহমান মতি, মা শিরিনা বেগম ও এক ভাই রতন নাটোর জেলা কাফুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তি। বাসসে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পক্ষাবলম্বন এবং সাংবাদিক স্বার্থবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) বিগত ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তার সদস্যপদ বাতিল করে। তবে বর্তমান বাসস এমডি পরিচালনা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই গত ২৩ এপ্রিল এক অফিস আদেশে মোরশাদুর রহমানকে সংস্থার সাংবাদিক নিয়োগ কমিটির সভাপতি নিয়োগ করলে তার দাপট বহুগুণে বেড়ে যায়।
সম্প্রতি সিআইডি ফৌজদারি মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে মোরশাদ বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং তারই ধারাবাহিকতায় তার হোয়াটসঅ্যাপ-০১৭৪৯৪১৬৮৯০ থেকে বাদির-০১৫৫২৩৫৪০১৬-এ জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ১০ হাজার টাকার একটি রসিদ প্রেরণ করে হুমকি দেয়। বাদি তৎক্ষণাৎ এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় হুমকির বিষয়টি বাসস এমডিকে অবহিত করলে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। মোরশাদ ফের হুমকি দিয়ে আবুল কালাম মানিককে একটি বার্তা পাঠায়। প্রেরিত বার্তায় সে দাবি করে, ‘আমি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্য হয়ে গর্বিত এবং গর্ববোধ করি। জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক।’
পরের দিন ৯ মে শনিবার বাসসে চিঠি দিয়ে হুমকির প্রতিকার প্রার্থনা এবং এ বিষয়ে এমডির নিস্পৃহতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উভয়েই অভিযোগকারীর ওপর বেজায় ক্ষিপ্ত হন। তারই ধারাবাহিকতায় মোরশাদ গং আবুল কালাম মানিকের ওপর হামলে পড়ে। মিডিয়া ওয়াচ নামক ফেসবুক পেজ থেকে ১০ মে রোববার এক অসার, বানোয়াট ও মানহানিকর পোস্ট দিয়ে তার চরিত্র হনন করা হয়। অভিযোগকারীকে সামাজিকভাবে অপদস্থ ও হেয়প্রতিপন্ন করতে বাসসে তার কর্মজীবনের অলীক কল্পকাহিনী তুলে ধরা হয় ঘৃণিত পোস্টটিতে। এ ব্যাপারে গত ১৩ মে বুধবার থানায় জিডি করা হয়।
অভিযোগকারী আবুল কালাম মানিক জানান, তার দৃঢ়বিশ্বাস বাসস এমডি কামাল উদ্দিন মজুমদারের প্রত্যক্ষ মদদে মোরশেদ গং তাকে জামায়াতপন্থী অপসাংবাদিক চিত্রিত করে ফেসবুক পোস্টটি দিয়েছে। ওই পোস্টে তাকে জড়িয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাব নেতারা, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী (নাম উল্লেখ না করে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তাক মোবারকীসহ অনেকের বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনক কুৎসা রটনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক ফ্যাসিবাদী বাসস এমডি আবুল কালাম আজাদ এবং দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগকারী মাহবুব মোরশেদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন হুমকিদাতা মোরশাদুর রহমান। পরিচালনা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই আবুল কালাম আজাদ ৬ আগস্ট ২০২৪ মোরশাদকে এক চিঠিতে দু’টি উচ্চতর বেতন গ্রেড ও উচ্চতর পদ দিয়ে অনিয়মের রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। ১০ বছর আগ থেকে কার্যকর ভূতাপেক্ষ বেতন গ্রেড ও পদ বলে মোরশাদের মাসিক বেতন বৃদ্ধি পায় ৪৭ হাজার টাকা। এ খাতে বকেয়া বেতন-ভাতা বাবদ হাতিয়ে নিয়েছেন ২৯ লাখ দুই হাজার ৪০৫ টাকা। বাসস চাকরি বিধিতে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার মানদণ্ডে পুরোপুরি অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বিদায়ী এমডি মাহবুব মোরশেদ মোরশাদুর রহমানকে প্রধান বার্তা সম্পাদক পদে (ইংরেজি) নিয়োগ দিয়ে সংস্থাটির মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেন। পরে তাকে অবশ্য জনবল কাঠামোবহির্ভূত এবং নি¤œতর সিটি এডিটর পদে নামিয়ে দেয়া হয়। বর্তমান এমডি ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী মোরশাদকে নিয়োগ কমিটির সভাপতি নিয়োগ দেয়ায় বাসসে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাসস আইন ও চাকরি বিধিতে এ ধরনের নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ।



