মো: সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নতুন করে উপজেলার আরো পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই উপজেলায় প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান। ফলে ফসল হারানোর শঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার দর্শা ও গাংগিনা নদীর পানি আবার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া, ঘিলাভুই ও সংরা এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মহাজনিকান্দা ও বোয়ালমারা গ্রাম প্লাবিত হয়।
নিচু এলাকা হওয়ায় এসব গ্রামের বসতঘর, কাঁচা সড়ক ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। এতে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হালুয়াঘাটে ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বর্তমানে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নিচে রয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে তলিয়ে থাকা ধান পচে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এতে কৃষকেরা বড় ধরনের আর্থিক সঙ্কটে পড়বেন।
প্লাবিত এলাকার কৃষকেরা জানান, ধারদেনা করে চাষ করা ধান কাটার আগ মুহূর্তে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। জুগলী ইউনিয়নের রান্ধুনীকুড়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, আর দুই-তিন দিন পানি থাকলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। বোরো ধানই তাদের পরিবারের প্রধান ভরসা।
জুগলী এলাকার বিএডিসির সেচ পাম্পের ব্যবস্থাপক নুর ইসলাম বলেন, শুধু রান্ধুনীকুড়া এলাকাতেই প্রায় ১০০ একর জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। অনেক কৃষক এখনো এক ছটাক ধানও কাটতে পারেননি। তার অভিযোগ, এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ খোঁজ নিতে আসেনি।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনিও প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে এবং ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়। স্থায়ী সমাধানে কার্যকর বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।



