- চীনের অর্থায়ন থেকে সরে সরকারি অর্থায়ন
- অর্থবছরের ৯ মাসে ৩১ প্রকল্পের অগ্রগতি ২৩.৬৪ শতাংশ
বড় অর্থায়নের প্রকল্পের চাপে পড়তে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিও (এডিপি)। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় নতুন এডিপির আকার বেড়েছে প্রায় ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
আগামী এডিপিতে তিনটি অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন বছরের জন্য ২৬ হাজার ২৩৫ কোটি ৩৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন না হওয়াতে পুরোটাই সরকারি অর্থায়ন করার প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তিনটি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে এডিপিতে যুক্ত করার জন্য রেলওয়ের মহাপরিচালক চিঠি দিয়েছেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় (সবুজ পাতা) অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পের তালিকার ওপর বিস্তারিত আলোচনা শেষে কিছু সংশোধন ও নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তীকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে অননুমোদিত তিনটি প্রকল্প আগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রকল্প তিনটি হলো, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে সেতুপুনর্বাসন বা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের স্থলে ‘নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনের লেভেল-ক্রসিং গেটগুলোতে গ্রেড-সেপারেটেড স্ট্রাকচার নির্মাণ প্রকল্প। প্রকল্পটি জুলাই ২০২৬ থেকে আগামী ২০৩১ সালের ৩০ জুন পাঁচ বছর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ছয় শ’ কোটি টাকা।
এখানে জিওবি বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন এক হাজার চার শ’ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হতে তিন হাজার দুই শ’ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
আর বাংলাদেশ রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ হতে লাকসাম বা কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এটার রুটও পরিবর্তন করা হয়েছে। যার কারণে প্রকল্পের নাম ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণ প্রকল্প’। এখানে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি শিফটিং প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে। আর প্রাক্কলিত ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা। পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া চীনের অনুদানে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্পের নামও সংশোধন করা হয়েছে। এটি ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ নামকরণ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
চীনের অনুদান পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় এখন ‘জিওবি’ বা সরকারি অর্থায়নেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। দু’বছর মেয়াদে বাস্তবায়নে এই প্রকল্পের খরচ এক হাজার ৬৩৫ কোটি ৩৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে, আইএমইডির হালনাগাদ তথ্য বলছে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বা রেল খাতে বরাদ্দ ছিল চার হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অর্থবছরের ৯ মাসে বাস্তবায়নের অগ্রগতি মাত্র ২৩.৬৪ শতাংশ বা এক হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। অর্থবছরের আর মাত্র তিন মাস বাকি। চলতি বছরের ৩১টি প্রকল্পের মধ্যে প্রকল্প ঋণ বা অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প হলো ১৯টি, যার বিপরীতে বিদেশী সহায়তা দুই হাজার ৫৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সঠিকভাবে প্রণয়ন করা জরুরি। সাশ্রয়ী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে কোনো প্রকল্প যুক্ত করা ঠিক না।
তিনি বলেন, এডিপিতে অহেতুক ব্যয় কমাতে হবে। বিদেশ ভ্রমণের নামে প্রকল্পের টাকা খরচ করা যাবে না। যদি অপচয় রোধ করা যায় তাহলে অল্প অর্থে বেশি উপকার পেতে পারি।



