ইতিহাস গড়তে পার্থে বাংলাদেশ দল

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে একের পর এক ইতিহাস হচ্ছে। এই যে সিডনিতে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দু’টি ম্যাচে খেলা সেটাও ইতিহাস। কারণ, নারী এশিয়ান কাপের ফাইনাল রাউন্ডে এই প্রথম এই দুই দেশের মুখোমুখি হওয়া। আগামীকাল আরেকটি ইতিহাসের অপেক্ষায় আফঈদা খন্দকারদের। সে লক্ষ্যেই গতকাল দুপুরে দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে বাংলাদেশ দল চলে এসেছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী পার্থে। সেখানেই কাল এবারের নারী এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে পিটার জেমস বাটলার বাহিনীর শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের। প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার টার্গেট। আর এ লক্ষ্য পূরণে মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমাদের জিততেই হবে মধ্য এশিয়ান দেশটির বিপক্ষে। ড্রও করলেও কোনো লাভ হবে না। কারণ গোল পার্থক্যে এগিয়ে উজবেকরা।

সিডনিতে বাংলাদেশের কোনো ফুটবল দল এই প্রথম খেললেও পার্থে কিন্তু নতুন নয়। এই পার্থেই বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল ২০১৫ সালে বিশ^কাপ বাছাই পর্বে খেলেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এনআইবি স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে অবশ্য ০-৫ গোলে হারতে হয়েছিল। ঋতুপর্না চাকমা, ছোট শামসুন্নাহাররা অবশ্যই সেই স্মৃতি মনে করতে চাইবেন না। তারা নতুনরূপে মাঠে নেমে পূর্ণ তিন পয়েন্টই পেতে চাইবেন।

আসরের ফরমেট অনুযায়ী তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দু’টি করে মোট ৬টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। শেষ আটে তাদের সঙ্গী হবে তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া তিন দলের সেরা দু’টি। বাংলাদেশ দলের সামনে এখন এই সেরা দুইয়ে থাকার মিশন। এ জন্য জয়ের কোনো বিকল্পই নেই মিলি আক্তারদের।

অবশ্য জিতলেই হবে না। সেই সাথে তাকিয়ে থাকতে হবে ‘সি’ গ্রুপে জাপান-ভিয়েতনাম এবং ভারত ও চাইনিজ তাইপের ম্যাচের দিকে। গতকাল জাপানের কাছে ০-১১ গোলে হেরে ভারত মোটামুটি বাদ পড়ার তালিকায় চলে গেছে। এরপরও তারা যদি শেষ ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে দেয় তখন তাদের পয়েন্ট হবে তিন। সেক্ষেত্রে গোল পার্থক্য হবে বিবেচ্য। ভারত এর আগে ভিয়েতনামের কাছে ১-২ গোলে হেরেছিল। আর গতকাল অন্য ম্যাচে চাইনিজ তাইপে ১-০ গোলে হারিয়েছে ভিয়েতনামকে। ফলে ১০ তারিখে ভারত যদি চাইনিজ তাইপের কাছে হেরে যায় তাহলে তা ইতিবাচকই হবে বাংলাদেশের জন্য। অবশ্য এর আগে বাংলাদেশকে আগামীকাল জিততে হবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। এ ছাড়া আজ ইরান-ফিলিপাইন ম্যাচের ফলাফলও বাংলাদেশের বিবেচনায় থাকবে।

‘এ’ গ্রুপে ইরান ও ফিলিপাইন দুই দলেরই কোনো পয়েন্ট নেই। ইরান প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ০-৩ গোলে এবং পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ০-৪ গোলে হেরেছে। আর ফিলিপাইন ০-১ গোলে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর ০-৩ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে। ফলে আজ যদি এই দুই দলের খেলা ড্র হয় তাহলে সেটিই হবে বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক। তখন আফঈদা খন্দকাররা জিতলেই ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসে কোয়ালিফাই করবে।

এই মুহূর্তে শূন্য পয়েন্ট এবং -৭ গোল পার্থক্য নিয়ে বাংলাদেশ দল অবস্থান করছে। তাদের মতোই গোল পার্থক্য -৭ ইরানের। ভারতের অবস্থান ১২ দলের মধ্যে ১২তমতে। তারা ১ গোল দিয়ে ১৩ গোলে হজম করেছে। ফলে গোল পার্থক্য-১২। কোনো পয়েন্ট না পাওয়া উজবেকিস্তানের গোল পার্থক্য-৬। মধ্য এশিয়ান দলটিও জিতলে চলে যাবে শেষ আটে।

এই তৃতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে আছে ভিয়েতনাম ও চাইনিজ তাইপে। দুই দলেরই পয়েন্ট ৩ করে। চাইনিজ তাইপে যদি ভারতকে হারায় তাহলে তারা গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই চলে যাবে শেষ আটে। আর ভিয়েতনাম যদি জাপানের কাছে বড় ব্যবধানে হারে তাহলে তাদেরও গোলপার্থক্যের ওপর ভর করে শেষ আটে যেতে হবে। তবে ভারত যদি জিতে যায় চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে এবং এবং জাপানের কাছে ভিয়েতনাম হেরে গেলে তখন হেড টু হেডে চাইনিজ তাইপে, ভারত ও ভিয়েতনামের গোল বিবেচনায় আসবে।