ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ

বাবা-বোনকে হারানোর পর চলে গেল কিশোর মুন্নাও

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

জীবন-জীবিকার টানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালী জেলার বাউফল থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এসে সবজি বিক্রি করতেন মীর কালাম (৩৫)। স্বপ্ন ছিল সন্তানদের লোখাপড়া করিয়ে বড় অফিসার বানাবেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে তা কখনো কল্পনাও করেননি। গত রোববার সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নিজেসহ পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। এরপর তারা শরীরে পোড়া গন্ধ নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করে আসছিলেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। গত সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মীর কালাম। একদিন পর বুধবার মারা যায় ছোট্ট মেয়ে কথা (৪)। গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ছেলে কিশোর মুন্না। হাসপাতালে কান্নাজড়িত কন্ঠে স্বজনরা বলেন, বাবা ও বোন হারানোর দুই দিন পরই মুন্নার মৃত্যু হলো। বার্ন ইউনটে পোড়া শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছেন মা সায়মা (৩২) ও বোন মুন্নি (৭)।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা: শাওন বিন রহমান জানান, মুন্নার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে তার মা সায়মা ৬০ শতাংশ ও বোন মুন্নি ৩৫ শতাংশ নিয়ে ভর্তি আছে। তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

গত রোববার সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লা গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো: হাসান জানান, সকাল ৭টার দিকে ওই বাসায় হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ হয়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখেন, ঘরের ভেতর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তখন ভেতর থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে সাথে সাথে নিয়ে আসা হয় বার্ন ইনস্টিটিউটে।

তিনি জানান, বাসার গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার বালুকদিয়ে গ্রামে।