দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে নীতিমালা প্রয়োগে বৈষম্য ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। করপোরেশনের বোর্ড সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিডিএ (কেন ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট) ও সিআইসি পদকে ‘ব্লক পোস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে ওই নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে অন্য বিভাগে পদায়ন ও বদলি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম ২০০৮ সালে ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী (সিডিএ) হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১১ সালে সিআইসি পদে পদোন্নতি পান। তবে এর আগেই তাকে চট্টগ্রাম বিক্রয় অফিসে বিক্রয় সহকারী হিসেবে বদলি দেখানো হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বিক্রয়সংশ্লিষ্ট পদে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি এখনো বহাল রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিডিএ/সিআইসি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্য বিভাগে বদলির সুযোগ নেই। কিন্তু এ নিয়ম উপেক্ষা করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে সমালোচনার মুখে এনামুল কবির, আবুল হোসেন, কাজী ফাতেহ আরাফাত ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পূর্বপদে ফিরিয়ে নেয়া হলেও আরিফুল ইসলাম বহাল থাকায় প্রশ্ন উঠেছে।
সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিনি ২০১৩ সালেই সিডিএ কাঠামো থেকে বের হয়ে গেছেন এবং এ বিষয়ে আদালতের রায়ও রয়েছে। তার দাবি, একই অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আরিফুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালের নীতিমালা কার্যকরের আগেই তিনি সিডিএ কাঠামো থেকে বের হয়ে গেছেন। তার মতে, বর্তমান পদ ও দায়িত্ব নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
এ বিষয়ে কেরুর জিএম (প্রশাসন) আল ফারুক ওমর শরীফ গালিব বলেন, এসব সিদ্ধান্ত তাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই নেয়া হয়েছে। কেন একজন বহাল আছেন আর অন্যরা বদলি হয়েছেন, সে বিষয়ে করপোরেশনই ব্যাখ্যা দিতে পারবে।
অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, কেরুতে দীর্ঘ দিন ধরেই বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই নীতিমালার ভিন্ন প্রয়োগ প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



