বদলগাছীতে ধান কাটার শ্রমিক সঙ্কট

Printed Edition
বদলগাছীতে পাকা ধান কাটছেন নারী শ্রমিকরা : নয়া দিগন্ত
বদলগাছীতে পাকা ধান কাটছেন নারী শ্রমিকরা : নয়া দিগন্ত

বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর বদলগাছীতে শ্রমিক সঙ্কটের কারণে মাঠে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালি ধান পেকে গেলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় সময়মতো ফসল কাটতে পারছেন না তারা। এরই মধ্যে আবহাওয়া অধিদফতরের বৃষ্টির পূর্বাভাসে কৃষকদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বদলগাছীতে ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ২৪ থেকে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে। তবে রোববার পর্যন্ত মাত্র চার হাজার ৬৮০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, যা মোট আবাদি জমির ৪০ শতাংশ। এখনো সাত হাজার ২০ হেক্টর জমির ধান কাটার অপোয় রয়েছে।

কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় সাতটি কম্বাইন হারভেস্টর থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে পাঁচটি। চাহিদার তুলনায় যন্ত্রের সংখ্যা কম হওয়ায় কৃষকদের পুরোপুরি সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি অনেক কৃষকের মধ্যে যন্ত্রে ধান কাটার বিষয়ে অনাগ্রহও রয়েছে।

বদলগাছী সদর ইউনিয়নের জাইজাতা গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন ২২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। তিনি জানান, সব ধান পেকে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ বিঘার ধান কাটতে পেরেছেন। প্রতি বছর পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চিলাহাটি এলাকা থেকে শ্রমিক এলেও এবার বাইরের শ্রমিক প্রায় আসেনি। স্থানীয় শ্রমিক দিয়েও সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না।

বালুভরা গ্রামের কৃষক মজিদুল ইসলাম বলেন, চার ভাই মিলে ১৮ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। সাত দিন চেষ্টা করে ১০ জন শ্রমিক পেয়েছেন। জমির ধরন অনুযায়ী প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, শ্রমিক সঙ্কট মোকাবেলায় কৃষকদের কম্বাইন হারভেস্টর ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের মৌসুমি কৃষিশ্রমিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রশিণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি জানান, যুব উন্নয়ন অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নেয়া হবে। একইসথে শ্রমিক সঙ্কট স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রয়োজনীয় পদপে গ্রহণ করা হবে।