অর্থমন্ত্রীর সাথে মার্কিন দূতের সাক্ষাতে ‘তেল-গ্যাস আমদানি নিয়ে আলোচনা’

Printed Edition
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সাক্ষাৎ : পিআইডি
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সাক্ষাৎ : পিআইডি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল-গ্যাস কেনার বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আলোচনা হয়েছে ইউএসএর সাথে যে ব্যবসা-বাণিজ্য হচ্ছে, এগুলোর অগ্রগতি নিয়ে।

‘এই যে আমাদের গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হতে যাচ্ছে এবং ইউএসএ থেকে যে আমাদের গ্যাস আমদানি, তেল আমদানি, এগুলোর অগ্রগতির বিষয়ে।’

বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের জন্য স্থানীয়ভাবে যে পরিমাণ গ্যাস উৎপাদন হয়, এর অর্ধেকের বেশি সরবরাহ করে মার্কিন কোম্পানি শেভরন। এ ছাড়া দেশের দু’টি এলএনজি টার্মিনালের একটি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি।

বাড়তি সম্পূরক শুল্কের বোঝা মাথায় নিয়ে নয় মাসের আলোচনা শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিন কয়েক আগে ৯ ফেব্রুয়ারি সই হয় ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামের ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তিটি। ভোটের ডামাডোলের কারণে এ নিয়ে আলোচনা কিছুটা আড়ালেই ছিল।

দেশের ‘স্বার্থ পরিপন্থী’ দাবি করে অনেকেই এ চুক্তির সমালোচনা করছেন। এ চুক্তি বাতিলে বিএনপি সরকার যেন উদ্যোগ নেয়, সেই দাবিও উঠেছে। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে এ চুক্তি টেনে নেয়ার বার্তা দেন। বুধবারের বৈঠকে চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি অর্থমন্ত্রী। তবে বাণিজ্য অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইউএস টেক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছে। এগুলোর উপর আলোচনা হয়েছে।’ জোরপূর্বক শ্রম কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা নিয়ে হয়নি। সেটা আমি জানি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর, ইউএসটিআর বলেছে, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।

বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, যা মার্কিন বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। রয়টার্স লিখেছে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন পাল্টা শুল্কব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাইছে। যদিও এ ধরনের প্রচেষ্টা গেল ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের ফলে বাতিল হয়ে যায়।

ইউএসটিআর বলেছে, তারা একটি বিশেষ বস্ত্র ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব করেছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও বস্ত্রপণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। তবে কত শুল্ক প্রযোজ্য হবে এবং কত পরিমাণ পণ্য এ সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।