রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিংসহ প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সাথে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজন। এর মধ্যে ছয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আবু বকর সিদ্দিক রিকশা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। জোটের আসন সমঝোতার সিদ্ধান্তে রাঙ্গামাটির নির্বাচনী হিসাব বদলে গেছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এ ছাড়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একমাত্র নারী প্রার্থী জুই চাকমা কোদাল প্রতীক নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে গণসংযোগ করছেন। গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জসিম উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক। পাহাড়ের বিভিন্ন জনদাবি ও সামাজিক আন্দোলনে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত এই নেতা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জোটের আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাঙ্গামাটি আসনটি খেলাফত মজলিশের ভাগে পড়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোখতার আহমেদ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার পার্বত্য অঞ্চলের কোনো আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল রাঙ্গামাটি আসনে প্রার্থী দেয়নি। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।



