জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় কাল

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশা পরিবার, সহযোদ্ধাদের

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এ জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এই হত্যায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষদোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আসা পরিবার, সহযোদ্ধোদের। এ দিকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয় সাক্ষী না দেয়া সত্ত্বেও রেকর্ড বইয়ে সাক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন ওই মামলার সাক্ষী রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় সোহাগ অভিযোগ করেন, আমি বরাবরই অপেক্ষা করে এসেছি। যে এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কবে আমাকে ডাকা হবে। তিন-চার দিন আগে শহীদ আবু সাঈদ ভাইয়ের পরিবারসহ আমাদের একজন সাক্ষী আরমান ভাই তারা ট্রাইব্যুনালে যান। তারা সেখানে গিয়ে যাদের সাক্ষ্য নেয়া হয়নি, তাদের বিষয়ে বিশেষ করে আমার সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন যে আমার সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়াই সাক্ষ্য গ্রহণের প্যাটার্ন তারা সাজিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হলো আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবু সাঈদ ভাইয়ের সাথে ছিলাম। তদন্ত প্রক্রিয়ার সাথেও ছিলাম। আমার সাক্ষ্যগ্রহণ করা না হলে কিভাবে তদন্ত প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ হলো। তিনি আরো বলেন, এই মামলায় লিখিত বা মৌখিকভাবে কোথাও সাক্ষ্য প্রদান করিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই সাক্ষীদের রেকর্ড বইয়ে আমার নামে একটি সাক্ষ্য উল্লেখিত আছে বলে আমি জানতে পেরেছি। সেই সাক্ষ্যটি আমার প্রকৃত সাক্ষ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে শাহরিয়ার নিজে কি সাক্ষ্য দিতে চান সেটাও লিখিতভাবে পড়ে শোনান।

শাহরিয়ারে বলেন, আমি রায় পেছানোর আহ্বান জানাচ্ছি না। কারণ এটা হলো দেশে-বিদেশের বহুল আকাক্সিক্ষত রায়।

শাহরিয়ার সোহাগ আবু সাঈদ হত্যা মামলার ২নং সাক্ষী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী।

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেটের সামনে গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এরপর আন্দোলন দানা বেঁধে উঠে। পরে ৫ আগস্ট পালিয়ে ভারতে যান সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলা করেন আবু সাঈদের বড় ভাই। এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো: হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ জন পলাতক।

অন্য ছয় আসামি বর্তমানে কারাগারে। তারা হলেন- রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

গত ৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের ৯ এপ্রিল মামলাটির রায়ের দিন ধার্য করেন।

শহীদ আবু সাঈদের বোন সুমি বেগম বলেন। আমরা চাই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ যারা দোষি তাদের যেন ফাঁসি হয়। মামলার বাদি শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আমার ভাই হত্যায় যারা সরাসরি এবং নেপথ্যে থেকে জড়িত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি যেন নিশ্চিত হয়। তাহলে জুলাই আন্দোলনে হাজার হাজার শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলের জীবন দানের মাধ্যমে ফাসিস্ট হাসিনার পতন হয়েছে। আমি চাই জড়িত সবাইকে যেন ফাঁসি দেয়া হয়। শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আমি চাই আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে। যারা নির্দেশ দিয়েছে। যারা পরিকল্পনা করেছে। যারা অর্থ দিয়েছে সবাইকে যেন ফাঁসি দেয়া হয়। সেটা যদি এই সরকার না করে তাহলে আমি মরেও শান্তি পাবো না।

শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত পুলিশসহ যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি যেন নিশ্চিত হয়।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এম শওকাত আলী বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় জড়িত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সবার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেটাই কামনা করছি।