যমুনা ফার্টিলাইজারে শ্রমিকদের বেতন থেকে চাঁদা আদায়

Printed Edition

খাদেমুল বাবুল জামালপুর

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (জেএফসিএল) কর্মরত শ্রমিকদের বেতন থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত কারখানার অভ্যন্তর ও প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শ্রমিক সরবরাহকারী কোনো ঠিকাদার নিয়োজিত না থাকায় ১৬৫ জন দফতরি ও অদফতরি শ্রমিক সরাসরি প্রশাসনের অধীনে কাজ করছেন। মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবন থেকে শ্রমিকদের মাসিক বেতন নগদে বিতরণ করা হচ্ছিল।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন নিয়ে বের হওয়ার পরপরই ২৫-৩০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র কারখানার প্রধান ফটক, ক্যান্টিন ও ভেতরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। পরে তারা শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বেতনের নির্দিষ্ট অংশ ছিনিয়ে নেয়।

সিভিল বিভাগের শ্রমিক আব্দুস সামাদ অভিযোগ করে বলেন, হুমকি ও প্রভাব খাটিয়ে তার কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। একই বিভাগের আবুল কালাম আজাদ জানান, তার কাছ থেকে জোরপূর্বক দুই হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

চরপাড়া গ্রামের শ্রমিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নবায়নে চাকরি করি। ১২ হাজার টাকা বেতন পেয়েছিলাম। সেখান থেকে অংকন ও জুলহাস নামে দুই ব্যক্তি চার হাজার টাকা নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বলে, এখানে চাকরি করলে বেতনের অর্ধেক দিতে হবে।’

জেএফসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এটি কর্তৃপক্ষের দেখভালের বিষয়।’

যমুনা সার কারখানার জিএম (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বেতন থেকে টাকা কেটে রাখা বা চাঁদা আদায়ের বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।’ তিনি জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি পরিস্থিতি প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

সরিষাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মৌখিকভাবে বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’