সুপার এইটে জয়ের খোঁজে পাকিস্তান

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে গ্রুপ-২-এ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। টি-২০তে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাল্লা ভারী ইংল্যান্ডের দিকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে মোট ৩১ ম্যাচ খেলে ২০টিতে জয় ইংলিশদের। ৯টিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। একটি করে ম্যাচ টাই ও পরিত্যক্ত হয়। ২০১৫ সালে শারজাহতে টাই হওয়া ম্যাচটি সুপার ওভারে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে মেলবোর্নে পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত শিরোপা ঘরে তুলেছিল ইংল্যান্ড।

প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড জয় পেলেও, বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ডের সাথে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। তাই সুপার এইটে প্রথম জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় জয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়া।

ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ১৮ ওভার স্পিন ব্যবহার করেছিল এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও একই কৌশল পুনরাবৃত্তি করতে পারে। এই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের উসমান তারিকের বোলিং বেশ কঠোর ছিল, প্রতি ওভারে মাত্র ৫.৮২ রান দিয়েছে। ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, পাঁচ ম্যাচে ১৪৬ রান করেছেন ১৩৩ স্ট্রাইক রেটে। তাদের শেষ খেলায়, পাল্লেকেলেতে ইংল্যান্ডের স্পিনাররা সাতটি উইকেট নিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচ খেলে তিন জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে সুপার এইটে নাম লেখায় পাকিস্তান। সুপার এইট পর্বে গ্রুপ-২-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান। টসের পর বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দু’দল।

পাকিস্তানের শীর্ষ তিন ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব ও সালমান আগা উইলো হাতে ভালো অবস্থায় আছেন। সাহিবজাদা চার ম্যাচে ১৬৪ স্ট্রাইক রেটে ২২০ রান করেছেন। প্রথম বল থেকেই তিনি আগ্রাসী এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়ারপ্লে পর্বে ১৩০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৩০ বা তার বেশি রান সংগ্রহ করতে প্রস্তুত। ফখর জামান এবং উসমান খান মিডল অর্ডারে সময়ে ধৈর্যশীল। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখেন এবং ইনিংস এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে টোটালকে এগিয়ে নিয়ে যান। শাদাব খান এবং মোহাম্মদ নওয়াজ ডেথ ওভারে কার্যকরী। এই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের স্পিনাররা রেকর্ড করা ৩৩টি ডিসমিসালের মধ্যে ২৬টিই করেছেন। সাইম আইয়ুব পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নেয়ার প্রতিভা রাখেন। মিডলে আবরার আহমেদ, নওয়াজ এবং শাদাব প্রাথমিক বিকল্প হিসেবে রয়েছেন। উসমান তারিক, তার অস্বাভাবিক অ্যাকশন দিয়ে, ভিন্ন কিছু উপস্থাপন করেন এবং যেহেতু ইংল্যান্ড আগে কখনো তার স্পিনের মুখোমুখি হয়নি, তাই তিনি সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারেন।

দলের অধিনায়ক সালমান আগা বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ থেকে আমরা ১ পয়েন্ট পেয়েছি। সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে হবে। হারলে চাপে পড়বে দল। তখন অন্যান্য দলের জয়-পরাজয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। আমরা কোন সমীকরণে যেতে চাই না।’

দুর্দান্ত জয় দিয়ে সুপার এইট পর্ব শুরু করে ইংল্যান্ড। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৫১ রানে হারায় তারা। জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে পাকিস্তানের বিপক্ষেও পূর্ণ ২ পয়েন্ট লক্ষ্য ইংল্যান্ডের। টানা দ্বিতীয় জয়ে সেমিফাইনালের পথ সহজ করতে চায় ইংলিশরা। পাঁচ ম্যাচে ১৩৩ স্ট্রাইক রেটে ১৪৬ রান করে বেথেল তাদের সবচেয়ে সেরা ব্যাটার। স্যাম কারান এবং উইল জ্যাকস ডেথ ওভারে আক্রমণাত্মক শক্তি নিয়ে আসার ইঙ্গিত রয়েছে। জোফরা আর্চার তিন ওভারে ২০ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছেন। ১৪ বলে ২১ রান এবং ২২ রানে তিন উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ সেরা হওয়া জ্যাকস বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের ব্যাটারদের জ্বলে উঠতে হবে এবং দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিতে হবে। যাতে বোলাররা লড়াই করতে পারে এবং তাদের কাজটা সহজ হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে জিততে হলে, সব বিভাগে দায়িত্ব নিতে হবে।’

পিচ রিপোর্ট

এই বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ পাল্লেকেলেতে হয়েছে। প্রথমে ব্যাট করা দলগুলো সাধারণত ১৫০ থেকে ১৭০ রেঞ্জে শেষ করেছে। পিচ শুরুতে শটের জন্য ভালো কিন্তু ইনিংস এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে স্কোরিং আরো কঠিন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মাঝামাঝি পর্বে স্পিন চালু হওয়ার পরে। এই ভেনুতে প্রথমে ব্যাট করার পর ইংল্যান্ড ৯ উইকেটে ১৪৬ করে, তারপর শ্রীলঙ্কাকে ৯৫ রানে গুটিয়ে দেয়।

ইংল্যান্ড যদি আবারো প্রথমে ব্যাট করে, তাহলে তাদের লক্ষ্য থাকবে ১৭৫ থেকে ১৮৫ রানের কাছাকাছি পৌঁছানো। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, প্রথম ইনিংসে ১৬০ থেকে ১৭০ রানের মধ্যে যেকোনো কিছু তাদের প্রতিরক্ষার জন্য ভালো ভিত্তি হতে পারে।

টস : বোলিং

আকাশ মেঘলা থাকলে, টসে জিতলে উচিত হবে প্রথমে বোলিং নেয়া এবং উইকেটের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা। উইকেট শুরু থেকেই ম্যাচের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।