নিজস্ব প্রতিবেদক
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ যোগাযোগব্যবস্থার অংশ ‘রেড টেলিফোন’ হঠাৎ অচল হয়ে পড়ে। এতে ৭ ঘণ্টা সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। টেলিফোনের তার ছিল কাটা, কোথাও কোথাও তার ছিলও না। পরে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তাদের ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগটি আবার চালু হয়।
জানা গেছে, গত সোমবার (১ জুন) এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সরকারের একাধিক সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিনের সাথে যেগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে শাহবাগ থানার ওসি মো: মনিরুজ্জামান বলেন, ওই ঘটনায় থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বশীলরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, ঈদুল আজহার সাত দিনের ছুটি শেষে গত সোমবার সচিবালয়ের কার্যক্রম চালু হয়। এদিন সকাল ৮টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত অফিস উপলক্ষে তার কার্যালয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় তার রেড টেলিফোনটির সংযোগ না থাকার বিষয়টি সামনে আসে। সাথে সাথে বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে বিটিসিএলের একটি টিম টানা ৭ ঘণ্টা কাজ করে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ পুনঃস্থাপন করে।
এ বিষয়ে বিটিসিএল কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনে সংযোগ না থাকার বিষয়টি সকাল ৮টার দিকে আমাদের জানানো হয়। আমরা তাৎক্ষণিক টেলিফোন সেটসহ এর অন্য বিষয়গুলো পরীক্ষা করে কাজ শুরু করি। বেলা ৩টার দিকে সংযোগটি সচল করা হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য বিটিসিএলের ফোন-৩ শাখার ব্যবস্থাপক নাজিম হায়দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে বিটিসিএলের নেয়া পদক্ষেপের একটি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, গত সোমবার সচিবালয়ের দায়িত্বরত কর্মীরা অফিসে এসে দেখতে পান গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন লাইনগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। সচিবালয়ের পুরাতন ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত মূল্যবান কপার ক্যাবলগুলো ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন। কোথাও কোথাও তার কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিছু কিছু জায়গায় তার ছিল না। এতে শুধু সাধারণ টেলিফোনই নয়, বরং অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা জরুরি।



