ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব সিলেটের পর্যটনে

ঈদে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র অর্ধেক পর্যটক এসেছেন

Printed Edition
ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব সিলেটের পর্যটনে
ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব সিলেটের পর্যটনে

সিলেট ব্যুরো

ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এবারের ঈদুল আজহায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে সিলেটের পর্যটন খাতে। লক্ষ্যমাত্রার মাত্র অধেক পর্যটক এসেছেন সিলেট ঘুরতে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজের কারণে সিলেটে আসতে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পর্যটকদের। মূলত ভঙ্গুর এই যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সিলেটের পর্যটন খাতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী সিলেটে ভ্রমনপিপাসুদের ঢল নামলেও এবারের চিত্রছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং ৬০-৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। মূলত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও নির্মাণকাজজনিত দুর্ভোগ, ট্রেন যাত্রায় দীর্ঘ সময় ও আকাশ পথে বিমানের ভাড়া ব্যয়বহুল হওয়া এর অন্যতম কারণ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার ঈদে হোটেল-মোটেলে বুকিং অনেক কম ছিল। ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে সাধারণত দুই সপ্তাহ আগে থেকেই সিলেটের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়। কিন্তু এবার সেই চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। বলছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজ, যানজট ও দীর্ঘ সময়ের যাত্রা এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেখানে ঢাকায় থেকে সিলেটে পৌঁছাতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লাগত, এখন অনেক ক্ষেত্রে সময় লাগছে ১০-১২ ঘণ্টারও বেশি। এতে পরিবার নিয়ে সিলেট ভ্রমণে আগ্রহ কমছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, জাফলং, সাদা পাথর, লালাখাল, শ্রীপুর, রাতারগুল, পান্তুমাই, মায়াবতী ঝরনা, ডিবির হাওর, বিছানাকান্দি, লোভাছড়া, চেরাপুঞ্জি, হজরত শাহজালাল (রহ:) ও হজরত শাহপরাণের (রহ:) মাজারে পর্যটক থাকলেও অন্য বছরের তুলনায় অনেক কম।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক তাহারিমা সুলতানা হাসি বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন রাত ১০টায় রওনা দিয়ে পরদিন সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেটে এসে পৌঁছেছি। সাধারণত রাতে ঢাকা থেকে সিলেট আসতে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লাগে। কিন্তু যানজট ও নির্মাণকাজের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়তে হয়েছে। দিনে যারা আসছেন তাদের ১৩-১৪ ঘণ্টার মতো সময় লাগছে।

সিলেট হোটেল মোটেল অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক নওশাদ আল মুক্তাদির নয়া দিগন্তকে বলেন, এবারের ঈদে আশানুরূপ পর্যটক আসেননি। ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫০ শতাংশ পূরণ হয়েছে। মূলত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়াও বিমানে উচ্চ মূল্যের টিকিট ও ট্রেনের যাত্রায় দুর্ভোগের কারণও রয়েছে। সবমিলিয়ে এবার পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ট্যুরিজম ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি মোহাম্মদ খতিবুর রহমান বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্ভোগ বড় প্রভাব ফেলছে। ছয় লেন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বিভিন্ন স্থানে যানজট লেগেই আছে। স্বাভাবিক সময়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে এখন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শায়েস্তাগঞ্জ অংশে দীর্ঘ যানজটের কারণে অনেকে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন।