নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া জাতীয় সম্পদ বাড়ানো সম্ভব নয় এবং সম্পদ সৃষ্টি না হলে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করা যাবে না। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি তার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (সিএএসটি) আয়োজিত ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনার শেষে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতির ব্যবচ্ছেদ’ এবং ‘ইধহমষধফবংয ঊপড়হড়সু: অ ঐড়ষরংঃরপ ঊাধষঁধঃরড়হ’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সেমিনারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ার আলোকে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, গত দেড় দশকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বৈষম্য, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।
মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হলেই সবাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা বলেন। কিন্তু সেই সম্পদ কীভাবে মানুষের মধ্যে বণ্টিত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা খুবই কম। অথচ এই দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব না দিলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।
সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বাস্তবতার চেয়ে উন্নয়নের চিত্র বেশি ভালো দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও লিখেছিলেন।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস অনুষদের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, সরকারি ঋণ, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাত নিয়ে তার গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তার উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পুনঃতফসিল, অবলোপন ও আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে থাকা ঋণসহ সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। তিনি পুনঃতফসিল করা ঋণকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সমস্যার সমাধান হয় না; বরং প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত ধান, সবজি বা অন্যান্য কৃষিপণ্য আগের মতোই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও কৃষক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। একইভাবে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনও এখনো অত্যন্ত কম।
সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিন্তক ও গবেষক ফরহাদ মজহার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, ওয়েস্টার্ন নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দ্বীন ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শিব্বির আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক, গবেষক ও বিশিষ্টজন।



