সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত ফসল দেশের খাদ্যচাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এলাকার বিভিন্ন বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও কৃষকবান্ধব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময় হাওরবাসীর খোঁজখবর রাখছেন এবং তার নির্দেশেই এই পরিদর্শন। মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, “অতীতে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু আমাদের সরকারের সময়ে তা সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হবে। এ বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অবহেলায় যেন সরকারের বদনাম না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।”
প্রতি বছর যেন ফসল রক্ষা বাঁধগুলো টেকসই হয়, সে জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও তদারকি বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। ভরাটকৃত খাল ও নদী পুনঃখনন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কৃষিকাজে সহায়ক প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বৈশাখে কৃষকের স্বপ্নের সোনালি ফসল যেন নিরাপদে গোলায় ওঠে, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকির নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের নূরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের কয়সর আহমেদ এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ টনেরও বেশি। স্থানীয় কৃষকরা আশা করছেন, মন্ত্রীর এই পরিদর্শনের পর বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজগুলো আরো গতিশীল ও টেকসই হবে।



