পাহাড়ি টুনটুনি

Printed Edition
পাহাড়ি টুনটুনি
পাহাড়ি টুনটুনি

মো: আবদুস সালিম

বিশ্বে মোট ১৪-১৫ প্রজাতির টুনটুনি পাখি রয়েছে। বাংলাদেশে পাতি টুনটুনি, কালাগলা টুনটুনি, দুর্গা টুনটুনি, পাহাড়ি টুনটুনিসহ আরো কয়েক প্রজাতির টুনটুনির দেখা মেলে। এক প্রজাতির সাথে আরেক প্রজাতির মধ্যে ওজন ও আকৃতিতে সামান্য হেরফের হলেও সব প্রজাতির টুনটুনিকে দেখতে প্রায় একই সমান বা ওজন মনে হয়। পাহাড়ি টুনটুনিরা কিন্তু চড়ুই পাখির চেয়েও ছোট, অর্থাৎ অতি ক্ষুদ্র। বেশিরভাগ প্রজাতির টুনটুনির গলার স্বর বা আওয়াজ চড়ুই তুলনায় অনেক বেশি। এতসব টুনটুনি থেকে আজ ‘পাহাড়ি টুনটুনি’ বিষয়ে আলোচনা করব।

পরিযায়ী পাহাড়ি টুনটুনি পাখি অন্যান্য প্রজাতির টুনটুনির মতো যত্রতত্র বা অহরহ দেখা যায় না। কমবেশি দেখা যায় আদ্র পার্বত্যাঞ্চলে। বেশি দেখা যায় এসব জায়গার বাঁশ বনে ও চিরসবুজ বনের লতা-পাতার আড়ালে। এ কারণে এ টুনটুনিকে ‘পাহাড়ি টুনটুনি’ বলা হয়ে থাকে। আর তাই অতি চঞ্চল এ পাখির ইংরেজি নাম হয়েছে মাউন্টেন টেইলর বার্ড (Mountain tailor bird)। অনেকে ‘সোনালি মাথা টুনি’ নামেও ডাকেন। দু-তিনটি পাতাকে একত্র করে সেগুলোকে ঠোঁট দিয়ে সূক্ষ্মভাবে সেলাই করে (সুতার মতো আঁশ দিয়ে) বাসা বানায়। এ কারণে এ পাখির ইংরেজি নামের সাথে ‘টেইলর বার্ড’ শব্দটি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ দর্জি পাখি। এর বৈজ্ঞানিক নাম অরথোটোমাস কাকুলাটাস (Orthotomus cuculatus)।

এ পাখির ওজন মাত্র প্রায় সাত-আট গ্রাম। মাথার রঙ সোনালি। কপাল লাল। বাদামি-কালো চোখ। সাদা-হলদে রেখা চোখের ওপরটায়। ঠোঁটের ওপরের অংশ কালো, নিচের পাটির রঙ কমলা। গাঢ়-ধূসর ঘাড়। পিঠ সবুজ। বুক ও গলা ধূসর। লেজের নিচটা হলুদ। মেটে-বাদামি পা ও পায়ের পাতা। কালো রেখা রয়েছে কেবল স্ত্রী পাখির বুকে। বাংলাদেশ ছাড়াও এ পাখি চোখে পড়ে ভিয়েতনাম, লাওস, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন, মিয়ানমার, ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশে। এদের প্রধান খাবার কীটপতঙ্গ বা পোকামাকড়। ফুলের মধু, মৌমাছি, বিভিন্ন পাতার পোকা, শুয়োপোকা ইত্যাদিও খায় ওড়ে ওড়ে। বর্ষাকাল অর্থাৎ মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুম। প্রজনন মৌসুমের কিছুটা হেরফের বা আগে-পিছে রয়েছে অঞ্চল বা দেশভেদে। পুরুষ-স্ত্রী মিলেমিশে বাসা বানায় ডুমুর, লেবু, কাঁঠাল, শিম প্রভৃতি গাছে। তিন-চারটি করে ডিম দেয়। ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে সময় নেয় ১৫-১৬ দিন। এমন সময়ে মানুষের উপস্থিতি টের পেলে উচ্চস্বরে ডাকতে থাকে মা পাখি। ১৫-২০ দিনে ওরা ওড়তে শিখে।