আলজাজিরা
ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং তার প্রশাসনের ইরাননীতি নিয়ে দেশের ভেতরে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক নীতি বিশ্লেষক নেগার মরতাজাভি। আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো মরতাজাভি এই কথা বলেন।
তার মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থানের কারণে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের ভেতরেই এখন ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যপন্থী ও তুলনামূলক ডানঘেঁষা অংশ সমালোচনা করে বলছে, এই নীতির কারণে ইরান আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল অবস্থানে পড়ছে। অন্য দিকে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে থাকা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ঘরানার একটি অংশও এই সমালোচনাকে সমর্থন করছে। নেগার মরতাজাভি উল্লেখ করেন, যে প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন, তার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এক চরম পরিহাস। তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রেসিডেন্টই নির্বাচনী প্রচারে মধ্যপ্রাচ্যের ‘অবিরাম যুদ্ধ’ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ট্রাম্পও দুইবার তা করেছেন। তিনি এগুলোকে ‘বোকা’ ও ‘অর্থহীন যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই সেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন।’’
এই বিশ্লেষকের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক পরিকল্পনাটি মূলত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাব ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের আগের সব প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করেছিল। আগের কোনো প্রশাসন এটি গ্রহণ না করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সবাই জানত এটি কোনো সহজ অভিযান নয়, কারণ ইরান কোনো কাগুজে বাঘ নয় এবং এখান থেকে পাল্টা আঘাত আসবেই। মরতাজাভি আরো বলেন, এই ঘটনার পর শান্তির প্রেসিডেন্ট মূলত যুদ্ধের প্রেসিডেন্টে পরিণত হয়েছেন। তিনি এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছেন, যেখানে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কোনো বাস্তব অর্জন তো নেই-ই, বরং নতুন নতুন সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। একই সাথে নিজের দল ও বিরোধী পক্ষ উভয় দিক থেকেই তার ওপর সমালোচনা বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতাই নয়; বরং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব নীতির মধ্যকার বড় ফারাককে সামনে এনেছে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।



