মুন্সীগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় গুলি, চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মুন্সীগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায় পৃথক নির্বাচনী সংঘর্ষে অন্তত দুইজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নোয়াখালীতে এক জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুন্সীগঞ্জে দুইজন গুলিবিদ্ধ : মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত দুইজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে গুলিবিদ্ধ ফয়সাল নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত অন্যরা হলেন- মো: লিজন, নুরুদ্দিন, ফয়সাল হোসেন ও মো: নিরব। তাদের মধ্যে লিজন ও নুরুদ্দিনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ সময় ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে সদ্য বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো: মহিউদ্দিনের সমর্থক জেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান মল্লিকের লোকজন মুন্সিকান্দি এলাকায় ভোট চাইতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা উজির আলী ও ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আওলাদ হোসেন মোল্লার লোকজনের সাথে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উজির আহমেদের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রামদা, বন্দুক নিয়ে ধাওয়া দেন। এতে দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় ককটেল ও ছররা গুলির আঘাতে অন্তত চারজন আহত হন।

ফুটবল প্রতীকের সমর্থক রিয়াদ মল্লিক বলেন, আমরা ফুটবল প্রতীকে প্রচারণা শুরু করেছিলাম। বিনা উসকানিতে উজিরের বাড়িতে ধানের শীষের নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে দেশী-বিদেশী অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের চারজন আহত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আহমেদকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ধরেননি।

এ দিকে পরে এ ঘটনার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একাধিক অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায় আওলাদ পক্ষের লোকজনকে।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মমিনুল ইসলাম বলেন, এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দুই-তিনজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি।

চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর গ্রামে শুক্রবার রাতে রাজনৈতিক উত্তেজনা হঠাৎ করেই সংঘর্ষে রূপ নেয়। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় দুই দলেরই নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ মিলেছে।

এ দিকে সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন এবং রাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে টহল জোরদার করে।

জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, তাদের দুই নেতা হামলায় আহত হয়েছেন। তারা হলেন- দর্শনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি মেহেদী হাসান (৩২) ও পৌর শ্রমিক কল্যাণ সেক্রেটারি হাসান তারেক (২৭)। তারা রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি মিছিল তাদের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে এসে উসকানিমূলক আচরণ করে। কিছু সমর্থক মদ্যপ অবস্থায় আপত্তিকর আচরণ করছিলেন। প্রতিবাদ জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর হামলা ও অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করেছে। বিএনপির অফিসে হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

অন্য দিকে দর্শনা থানা বিএনপির দফতর সম্পাদক আসলাম হোসেন বলেন, তার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে জামায়াত কার্যালয় থেকে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়, যা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। আমাদের সমর্থকদের উদ্দেশে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা হয়। প্রতিবাদ জানালে তারা আমাদের চড়াও হয়।

হামলায় মুজিবর রহমান, জুনায়েদ হোসেন ও আশিক নামে বিএনপির তিনজন আহত হয়েছে।

তিনি জামায়াতের অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াতের লোকজনই বিএনপির নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। ঘটনাস্থলে এলেই বোঝা যাবে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে।

দর্শনা থানার ওসি মো: মেহেদী হাসান বলেন, দুই দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতের দু’জন ও বিএনপির একজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে জামায়াতের একটি কার্যালয়ে একটি ভাঙা চেয়ার পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল অব্যাহত রয়েছে।

নোয়াখালীতে জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে কার্যালয়টিতে আগুন দিয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের দীনেশগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে নির্বাচনী কার্যালয়ের ভেতরে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুড়ে গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনী কার্যালয়টি দীনেশগঞ্জ বাজারের একটি পাকা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত। শুক্রবার দিনগত রাত ৩টার দিকে সেখানে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। তবে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলেন তারা।

এ দিকে দুর্বৃত্তরা কার্যালয়টিতে আগুন দিয়েছেন বলে দাবি করে উপজেলা জামায়াত আমির মো: আবু জাহেদ বলেন, কার্যালয়ের পাশের কক্ষে অটোরিকশাটির চালক ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি রাত ৩টার দিকে কার্যালয়ের শাটার খোলার শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের প্রচারে বাধা, গণসংযোগে হামলা, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এর ধারাবাহিকতায় এই আগুন দেয়া হয়েছে।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কার্যালয়ের ভেতরে অটোরিকশাটির ব্যাটারি চার্জে দেয়া হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।