শেখ শামসুদ্দীন দোহা খুলনা
ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। উৎসবকে ঘিরে খুলনা নগরীর ফুটপাথ থেকে অভিজাত শপিংমল সবখানেই জমে উঠেছে ঈদের বাজার। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় নগরীর নিউ মার্কেট, শিববাড়ি, সোনাডাঙ্গা ও ডাকবাংলো এলাকাজুড়ে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের মধ্যেও অলিগলিতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
খুলনার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিপণি বিতানগুলোর কেন্দ্র বড় বাজার এলাকা। ঈদকে সামনে রেখে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুষঙ্গের পোশাক কিনতে আসা ক্রেতাদের উপস্থিতি এখানে বেশি। বয়স্ক ব্যক্তি থেকে শুরু করে শিশুদের জন্য পাঞ্জাবি কিনতে আসা অভিভাবকরাই মূল ক্রেতা।
বড় বাজারের দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে লখনৌ, সুতি ও সিল্ক কাপড়ের কারুকাজ করা পাঞ্জাবি, পাজামা, লুঙ্গি, দেশী-বিদেশী টুপি, আতর, সুরমা, তসবিহ ও জায়নামাজসহ নানা ধর্মীয় সামগ্রী। অন্য দিকে আধুনিক ও পশ্চিমা ধাঁচের পোশাকের জন্য তরুণদের ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে শিববাড়ি, সোনাডাঙ্গা ও নিউ মার্কেট এলাকার অভিজাত শপিংমলগুলোতে।
এ ছাড়া ফেরিঘাট থেকে ডাকবাংলো হয়ে স্টেশন রোড পর্যন্ত বিস্তৃত ফুটপাথ বাজার স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। এখানে তুলনামূলক কম দামে পোশাক, জুতা, কসমেটিকস ও নানা ফ্যাশন সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে।
বিভিন্ন মার্কেটে প্রিমিয়াম মানের পাঞ্জাবি, জিন্স ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট, ক্যাজুয়াল ও ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, পলো শার্ট, স্নিকার্স, ফরমাল লেদার জুতা, বেল্ট ও মানিব্যাগের পাশাপাশি নারীদের জন্য থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, কাফতান, জর্জেট ও সুতি শাড়ি এবং শিশুদের জন্য নানা রঙের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। উন্নতমানের কসমেটিকস ও জুয়েলারি সামগ্রীও ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
বড় বাজার এলাকার এক দোকান মালিক জানান, রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও মাঝামাঝি সময় থেকে বেচাকেনা বেড়েছে। ইফতারের পর ক্রেতাদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এবার মেয়েদের মধ্যে ‘আলিয়া কাট’ ও ‘নায়রা কাট’ থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি।
অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কাশেম বলেন, ‘বাজেট সীমিত হওয়ায় ফুটপাথ থেকেই পরিবারের জন্য কেনাকাটা করছি। দরদাম করে সাধ্যের মধ্যে জিনিস পাওয়া যায়।’
সপরিবারে কেনাকাটা করতে আসা আবদুল হান্নান জানান, এবার পোশাকের সংগ্রহ ভালো এবং দামও তুলনামূলক সহনীয় রয়েছে।
এ দিকে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ চাঁদাবাজির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তারা জানান।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) জানায়, ঈদকে ঘিরে নগরীর মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সচেতনতা বাড়ালে উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদ উদযাপন সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।



