পাবনা প্রতিনিধি
পাবনার ভাঁড়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও অর্থ-স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ২০-২৫ জন অজ্ঞাতকে আসামি করে পাবনা সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, ভাঙচুর ও চুরিসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
মামলার বাদি মো: জাহিদ হাসান মুসা (৪০) অভিযোগ করেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়, বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাঁড়ারা গ্রামের বাদির বাড়িতে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জড়ো হয়। তাদের হাতে লোহার রড, ধারালো চাকু, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ।
বাদির দাবি, তারা প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে দলটি বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের সামনে থাকা একটি ১০০ সিসি মোটরসাইকেল, ঘরের জানালার গ্লাস, ফ্রিজ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী- মাছের প্রকল্পের বিক্রির ৮ লাখ টাকা নগদ; আলমারি থেকে ২২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক ৫৫ লাখ টাকা); ১০ ভরি রুপা (প্রায় ৪৫ হাজার টাকা) লুট করা হয়েছে।
ড্রয়ার ও আলমারি ভেঙে এসব মালামাল লুটে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ ছাড়া ভাঙচুরে প্রায় ১০ লাখ টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে চুরি ও ক্ষতির পরিমাণ ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদি জানান, হামলার সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি ও তার স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। পরিবার নিয়ে খুব ভয়ে আছি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/৪৪৮/৩৭৯/৪২৭/ ৫০৬/ ১১৪/৩৪ ধারায় মামলা হয়েছে। অভিযোগগুলো হলো- বেআইনি জনতা গঠন; অস্ত্রসহ অনধিকার প্রবেশ; ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন; চুরি। মামলাটি ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে থানায় নথিভুক্ত হয় এবং পরদিন আদালতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মালামাল উদ্ধার বা কাউকে গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
গ্রামের বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। সাম্প্রতিক কয়েক দফা উত্তেজনার পর এমন সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, এভাবে দল বেঁধে হামলা হলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করে না। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা দরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় দলবদ্ধ সহিংসতা ও সম্পদ লুটের ঘটনা বেড়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত না হলে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার আশঙ্কাও থাকে। থানার একটি সূত্র জানায়, অভিযোগ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভাঁড়ারার এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। এখন দেখার বিষয়- প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হয় কি না।
মামলার বাদি জাহিদ হাসান মুসা বলেন, ১৩ তারিখে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর লুটপাট করে প্রায় ৭০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। নির্বাচনের পরদিন ১৩ তারিখে ঘটনা ঘটলেও এ পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। বরং আসামিরা উল্টো আমাদেরকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আসামিরা এলাকায় বীরদর্পে ঘুরলেও পুলিশ নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। আওয়ামী লীগের ১৭ বছর যাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছি। বর্তমানেও আমরা তাদের হাতে নির্যাতিত। এই সন্ত্রাসীরা এখন এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী বিএনপির ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে।



