ক্রিকেট আমাদের ডিএনএতে : ইসরাফিল

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) হবে জনগণের, কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের ৯। বোর্ডের মূল কাজ খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করা। এই নীতিগুলো ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে বোর্ড প্রকৃত অর্থে জনগণের বোর্ডে পরিণত হবে। সম্প্রতি চার-ছক্কা পডকাস্টে এমন মন্তব্য করেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য এবং ফিন্যান্স কমিটির প্রধান ইসরাফিল খসরু।

বর্তমানে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি বিসিবির দায়িত্বে রয়েছে। আগামী ৭ জুন বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরপর নির্বাচিত ২৫ জন পরিচালক নিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। ক্যাটাগরি-২ থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া ইসরাফিল খসরু আরো বলেন, ‘দিনশেষে ক্রিকেট বোর্ড তো কোনো গ্রুপের না। বাংলাদেশের ক্রিকেট মানুষের আবেগের সাথে জড়িত। সবাই ক্রিকেটকে ভালোবাসে, এটা আমাদের ডিএনএতে আছে।’

ক্রিকেট অবকাঠামোর ঘাটতির কথা তুলে ধরেন, ‘দেশে এখন পর্যাপ্ত উন্নত ট্রেনিং সুবিধা ও অ্যাকাডেমি গড়ে ওঠেনি। অনেক জায়গায় দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মিত লিগও হচ্ছে না, যা নতুন খেলোয়াড় তৈরির পথে বড় বাধা। ফলে আমরা এটা মেনে নিয়ে সামনে আগাতে চাই। আমাদের আরো ভালো অবকাঠামো দরকার, অ্যাকাডেমি দরকার। সাথে খেলা মাঠে গড়াতে হবে। অনেক জায়গায় অনেক বছর ধরে লিগ হচ্ছে না। যদি খেলাই না হয় প্লেয়ার আসবে কোথা থেকে, পাইপলাইন আসবে কোথা থেকে? খেলা হতে হবে, বিভাগীয় ক্রিকেট, লিগগুলো হতে হবে। খেলার জন্য আবার মাঠও লাগবে। বিসিবির একটা বড় দায়িত্ব মাঠগুলো, সুযোগ-সুবিধাগুলো উন্নত করা যেন খেলা হতে পারে।’

যেকোনো অবস্থায় ক্রিকেটারদের পাশে থাকতে চান ইসরাফিল। ‘আমরা আসার পর বিপিএলের অনেক বকেয়া ছিল। নিজেরা অ্যাকশন নিয়ে এগুলো ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেছি। প্লেয়ারদের বাদ দিয়ে দেশের ক্রিকেটকে সামনে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের যেটা দরকার তা দিতে হবে। প্লেয়াররা যখন দেখছে বোর্ড সাপোর্ট করছে, তারা আরো অনুপ্রাণিত হচ্ছে।’

একটা সভাতেই বেতন বাড়ানো সম্ভব

বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে দুই মাসের কাছাকাছি হতে চলেছে। ইতোমধ্যে নিজেদের দ্বিতীয় বোর্ড মিটিংয়েই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক এবং ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড। ফলে স্বস্তি ফেরে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের মাঝে। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবি অনেক দিন ধরেই ছিল। যা আগের বোর্ডগুলো সেভাবে আমলে নেয়নি। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি সেই দাবি মিটিয়েছে। পুরুষ এবং নারী উভয়েরই পারিশ্রমিকের সাথে বেড়েছে ম্যাচ ফিও।

প্লেয়ারদের বেতন বাড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইসরাফিল বলেন, ‘যদি প্লেয়ারদের বেতন বাড়াতে চান তাহলে একটা বোর্ড মিটিংয়েই এটা সম্ভব। আমরা কিন্তু আমাদের (বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির) দ্বিতীয় বোর্ড মিটিংয়েই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের বেতন বাড়িয়েছি, নারী এবং পুরুষ উভয়েরই। আমার মনে হয় এটা অনেক দিন ধরেই প্লেয়ারদের পাওনা ছিল। আগেই করা যেত, আমরা এসেই করেছি। প্লেয়াররা অনেক খুশি, তাদেরকে তো এক্সট্রা কিছু দিচ্ছেন না- এটা তাদের পাওনা, তারা এটা ডিজার্ভ করে।’