আবুল কালাম
- উচ্চ তাপমাত্রার আশঙ্কা
- দেখা দেবে ভয়াবহ বন্যা
- ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি উৎপাদন
বিষাক্ত পানি, বায়ুতে মানবদেহে চড়াচ্ছে বিষ। গাড়ির ধোঁয়া, ধুলাবালু, যেখানে-সেখানে ফেলা ময়লা-আবর্জনার কারণে দূষিত বাতাস এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। জলবায়ু পরিবর্তনে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে বাংলাদেশ। এতে করে চরম জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়বে ৯০ শতাংশ মানুষ। আর আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ঢাকা হবে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর। সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘ, বিশ্ব ব্যাংক, ‘ক্লাইমেট অ্যাপ্লিকেশন ফোরাম-এর প্রকাশিত পৃথক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনে বিরাজমান অবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ানক বার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই মন্তব্য করে তারা বলছেন, প্রকৃতির এমন অচরণে এটা নিশ্চিত সামনে আমাদের জন্য ধেয়ে আসছে ভয়ানক বিপদ। যদিও ইতোমধ্যে বায়ুদূষণের পাশাপাশি ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে না এলে সময়ের সাথে জলোচ্ছ্বাস, উচ্চ তাপমাত্রা, ভয়াবহ বন্যা, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। পারিবারিক পর্যায়েও ঝুঁকি বাড়বে বহু গুণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আবদুস সালাম নয়া দিগন্তকে বলেন, বায়ুদূষণ বিশ্বের সব দেশেই কমবেশি আছে। আর যেসব দেশে অনেক বেশি ছিল তারা ইতোমধ্যে তা নিয়ন্ত্রণ করেছে। ফলে তাদের দেশ বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে বিরাজমান অবস্থায় মনে হচ্ছে আমরা ভয়ানক অবস্থার দিকে যাচ্ছি। কিন্তু তার পরও আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকার পরও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। তার প্রধান কারণ পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। এটা বড় বিপদের আলামত মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না হলে সামনে বড় বিপদের মুখোমুখি হতে হবে।
আরেক পরিবেশ বিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও মানারাত ইন্টার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মোহাম্মদ আবদুর রব নয়া দিগন্তকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে প্রকৃতির আচরণ বলে দিচ্ছে সামনে ভয়ঙ্কর বিপদ ধেয়ে আসছে। কারণ এতে করে উচ্চ তাপমাত্রা, ভয়াবহ বন্যা, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। পারিবারিক পর্যায়েও ঝুঁকি বাড়বে বহু গুণ।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে দূষণ যেভাবে চড়াচ্ছে তাতে মাটি পানি বাতাসে বিষ ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে প্রতিটি ঘরে ঘরে মানুষের বিপদ বাড়ছে। কারণ বায়ু থেকে মানুষের শরীরে যেমন বিষ ছড়াচ্ছে একইভাবে পানি থেকে দূষিত হচ্ছে মাটি। সেই মাটিতে যে ফলন হচ্ছে তাও বিষাক্ত হয়ে মানুষের ঘরে যাচ্ছে এবং খাবারের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই সময় থাকতে এর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি দাগিদ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ‘ক্লাইমেট অ্যাপ্লিকেশন ফোরাম ২০২৫’ খুলনায় আয়োজিত আলোচনায় জানায়, জলবায়ু সংবেদনশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশ হ ১৫ পৃ: ২-এর কলামে



