ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

বগুড়ায় প্রসূতি ও এক শিশুর করুণ মৃত্যু

Printed Edition

বগুড়া অফিস

বগুড়ায় ডাক্তার ও নার্সের দায়িত্ব অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে পৃথক ঘটনায় এক প্রসূতি ও আড়াই মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ইদের দিন রাতে নগরীর খান্দার বাজার এলাকার সুস্বাস্থ্য ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সদরের পালশা এলাকার আব্দুর রশিদ বাবুর কন্যা কলেজ পড়–য়া আফরিন জামান অহনা (১৮) সন্তান প্রসবের পর অন্য রক্ত শরীরে প্রবেশ করানোর কারণে মারা যায়। অপর দিকে গতকাল রোববার (৩১ মে) সকালে নগরীর কানছগাড়ী এলাকায় অবস্থিত সৃষ্টি জেনারেল হাসপাতালে জেলার সোনাতলা উপজেলার পূর্ব ভেলুরপাড়া এলাকার সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আব্দুল আহাদের ছেলে আয়ান নার্সের অবহেলার কারণে মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কলেজছাত্রী অহনা : বগুড়া সরকারি কলেজের ছাত্রী আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থী আফরিন জামান অহনা (১৮) সন্তান প্রসবের জন্য গত ২৮ মে নগরীর খান্দার বাজার এলাকার সুস্বাস্থ্য ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এরপর সন্তান প্রসব হয়। তখন পর্যন্ত অহনা সুস্থ ছিল। ডাক্তারের পরামর্শে তার শরীরে রক্ত দেয়া হয়।

পরিবারের দাবি ডাক্তারকে অহনা জানায়, তার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজেটিভ। কিন্তু সেখানে রক্ত পরীক্ষা শেষে ডা: জাানয়, তার রক্তের গ্রুপ বি পজেটিভ। এরপর শরীরে বি পজেটিভ রক্ত পুশ করা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে রক্ত বের হলে নার্স ও ডাক্তারকে জানালে তারা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। এরপর সেখানে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মে রাত পৌনে ৪টায় মারা যায়। এর পর থেকে অভিযুক্ত ক্লিনিক বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ পালিয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলার ডপুটি সিভিল সার্জন ডা: নূর ই শাদিদ বলেন, আমরা ঘটনাটি জেনেছি। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সোমবার অফিস খুললে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শিশু আয়ান : ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নার্সদের অবহেলায় বগুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আড়াই মাস বয়সী শিশু আয়ানের। স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না দেয়ার কারণেই প্রাণ হারিয়েছে শিশুটি। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর কানছগাড়ী এলাকায় অবস্থিত সৃষ্টি জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের দাবি, শনিবার রাত পর্যন্ত আয়ান অনেকটাই সুস্থ ছিল। রাতে ডাক্তার স্যালাইন আর ইনজেকশন লিখে দেন। আমরা নার্সদের বারবার বলেছি। কিন্তু তারা বলে সকালে দেয়া হবে। পরে আর সেগুলো দেয়া হয়নি। সকালে দেখি আমার ভাগ্নে আর নেই।

সৃষ্টি জেনারেল হাসপাতালের সহকারী ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে শিশুটি ভর্তি ছিল। পরে শুনি মারা গেছে। তবে ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। ঘটনার পর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল সম্পন্ন করে।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন এস এম নূর-ই-শাদীদ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।