আরিফুল ইসলাম জিমন ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামের করতোয়া নদীর তীরবর্তী দুর্গম চর এলাকায় বছরের পর বছর ধরে চলছে কোটি টাকার জুয়ার আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে পুলিশ অভিযান চালালেও রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে জুয়া সিন্ডিকেটের মূল হোতারা। এতে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর তীরঘেঁষা ওই চর এলাকায় প্রতিদিন দুপুরের পর তাবু টাঙ্গিয়ে বসে জুয়ার আসর। দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে সিএনজি ও মোটরসাইকেলে করে সেখানে জড়ো হন পেশাদার জুয়াড়িরা।
অভিযোগ রয়েছে, জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তাদের নিয়োগ করা লাইনম্যানরা দূর থেকেই প্রশাসনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। ফলে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও আগেভাগেই পালিয়ে যায় মূল আয়োজকরা। অভিযানে আটক হন মূলত খুচরা জুয়াড়িরা।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চললেও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় পুলিশের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সাথে ওই এলাকায় নিয়মিত মাদকের আসরও বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তরুণ সমাজ বিপথে যাওয়ার পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে।
গত বছর থেকে একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ এবং বিভিন্ন সময় অভিযানের পরও জুয়ার আসর বন্ধ না হওয়ায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মূল নিয়ন্ত্রকরা অদৃশ্য কারণে সবসময় নিরাপদে থেকে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, ‘পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। কিন্তু আসল নিয়ন্ত্রকরা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। এত দিনেও তারা ধরা পড়ে না কেন, সেটাই প্রশ্ন।’
আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ‘জুয়ার বিরুদ্ধে কথা বললেই সিন্ডিকেটের লোকজন ভয়ভীতি দেখায়। অথচ প্রশাসনের সামনেই তারা প্রকাশ্যে এসব চালিয়ে যাচ্ছে।’
ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, জুয়ার আসরটি তিন থানার সীমান্তবর্তী দুর্গম চর এলাকায় হওয়ায় অভিযানে গেলে জুয়াড়িরা সীমানা জটিলতার সুযোগ নেয়। পুলিশ গেলে তারা অন্য থানার এলাকায় পালিয়ে যায়। তিনি জানান, পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট থানার যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রুবানা তানজিম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে।
ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ জানান, জুয়ার আসর বন্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জুয়া ও মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে আরো বড় পরিসরে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।



