নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
উত্তরের জনপদ দিনাজপুরে নবাবগঞ্জে এখন গ্রীষ্ম মানেই লিচুর ঘ্রাণে ভরা এক আনন্দের সময়ের অপেক্ষা। আর মাত্র কয়েক দিন পরই বাজারে উঠবে উপজেলার বিখ্যাত সুস্বাদু লিচু।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাগানে কাঁচা লিচুতে রঙ ধরা শুরু হয়েছে। সবুজ পাতার ফাঁকে লালচে আভা ছড়ানো থোকা থোকা লিচু যেন আগাম জানান দিচ্ছে মৌসুম এসে গেছে।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার লিচুর সুনাম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহু আগেই ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বেদানা লিচুর মিষ্টি স্বাদ ও রসালো গঠন ক্রেতাদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। প্রতি বছর মৌসুম ঘিরে উপজেলার বাগানগুলোতে ভিড় বাড়ে পাইকার ও ফলপ্রেমীদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৯৭ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই বাজারে আসতে শুরু করবে আগাম জাতের লিচু। তবে এ বছর শুরু থেকেই আবহাওয়ার বেশ বিরূপ প্রভাব ছিল। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, দমকা হাওয়া ও কয়েক দফা শিলাবৃষ্টিতে অনেক গাছের গুটি ঝরে যায়। এতে ফলন কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। তারপরও নিয়মিত পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে বেশির ভাগ বাগানের লিচু ভালো অবস্থায় রয়েছে।
লিচু চাষিরা বলছেন, এবার গাছে মুকুল তুলনামূলক কম এলেও বর্তমানে যে ফল রয়েছে তার মান ভালো। তাই বাজারে দাম ভালো পাওয়ার আশা করছেন তারা। অনেক বাগান মালিক ইতোমধ্যে পাইকারদের সাথে প্রাথমিক কথাবার্তাও শুরু করেছেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাদ্রাজি ও বোম্বাই জাতের লিচু বাজারে আসবে। পরে পর্যায়ক্রমে বেদানা, চায়না থ্রি ও কাঁঠালি জাতের
লিচু উঠবে। তাপপ্রবাহের কারণে কিছু
ক্ষতি হলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এখন বাজারে যেসব লিচু বিক্রি হচ্ছে তার বেশির ভাগই পুরোপুরি পরিপক্ব নয়। তাই অপরিপক্ব লিচু না খাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সব কিছু ঠিক থাকলে আর কিছু দিন পরই নবাবগঞ্জের হাট-বাজার ভরে উঠবে লাল টুকটুকে লিচুতে। আর সেই সাথে চার দিকে ছড়িয়ে পড়বে গ্রীষ্মের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত ফলের মিষ্টি সুবাস।



