আগ্রাসনের শিকার শিশুদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস আজ

Printed Edition

নাসিম সিকদার

মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট নিরসনে ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় মিসর ও ইসরাইলের মধ্যে একতরফা ‘ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি’ সম্পাদিত হয়, যা আরব লিগ ও জাতিসঙ্ঘ প্রত্যাখ্যান করে। একই বছর লেবাননে ইসরাইলি সামরিক হামলা বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদ অন্তর্বর্তীকালীন জাতিসঙ্ঘ বাহিনী গঠন করে এবং ১৯৭৮ সালের ১৩ জুন তারা ইসরাইলি প্রত্যাহার নিশ্চিত করে। ১৯৮২ সালের মে পর্যন্ত এলাকাটি শান্ত ছিল এবং সেখানে জাতিসঙ্ঘ তিনটি শান্তিরক্ষী কার্যক্রম পরিচালনা করত।

১৯৮২ সালের জুনে পরিস্থিতি আকস্মিক বদলে যায়। ৪ জুন ইসরাইল বৈরুতে বিমান হামলা চালায়। ৫ জুন নিরাপত্তা পরিষদ সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানালে পিএলও (চখঙ) সাড়া দেয়, কিন্তু ৬ জুন ইসরাইল বিপুল শক্তি নিয়ে লেবাননে অনুপ্রবেশ করে। ইসরাইলি বাহিনী, পিএলও এবং লেবানন জাতীয় আন্দোলনের সশস্ত্র লড়াইয়ে বহু নিরপরাধ ফিলিস্তিনি ও লেবাননি শিশু প্রাণ হারায়।

এই বর্বরোচিত আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ১৯ আগস্ট ১৯৮২ তারিখে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে ৪ জুন তারিখটিকে স্মরণীয় রাখতে দিনটিকে ‘আগ্রাসনের শিকার নিরপরাধ শিশুদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

জাতিসঙ্ঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) রিপোর্টে প্রকাশ, যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণামে এক দশকে (১৯৮৬-১৯৯৬) ২০ লাখ শিশু নিহত, ৬০ লাখ আহত বা পঙ্গু এবং ১০ লাখ শিশু এতিম হয়েছে। এ ছাড়া ২ কোটির বেশি শিশু গৃহহারা এবং ৩০টিরও বেশি দেশে ৩ লাখ শিশু প্রত্যক্ষ যুদ্ধ, রসদ বহন বা যৌন দাসত্বে লিপ্ত। ১৯৪৫ সালের পর থেকে সংঘটিত ১৫০টির বেশি যুদ্ধে ২ কোটি মানুষ মারা গেছে, যার ৮০ ভাগই ছিল বেসামরিক নারী ও শিশু। বর্তমানে ২ লক্ষাধিক শিশু সশস্ত্রবাহিনীর অধীনে যুদ্ধ করছে।

জাতিসঙ্ঘ শিশু অধিকার সনদের মাধ্যমে ১৫ বছরের কম বয়সীদের যুদ্ধে অংশ না নেয়া এবং যুদ্ধকালীন শিশু ও মায়েদের বিশেষ সুরক্ষা ও ত্রাণ সরবরাহের আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ শিশুদের সৈন্য হিসেবে ব্যবহার রোধ, খুন, জখম ও ধর্ষণ থেকে রক্ষার পুনঃআহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ১৯৯৯ সালের সনদে ১৮ বছরের কম বয়সীদের সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নেয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়।

বর্তমানে সিয়েরা লিওন থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিশেষ করে বিদ্রোহী গ্রুপগুলোতে প্রায় তিনলাখ শিশু নিয়োজিত। ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানায়, যুদ্ধের কারণে অ্যাঙ্গোলা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ শিশু নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। রণাঙ্গনে শিশুদের রক্ষা এবং সঙ্ঘাতের সময় যারা ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের টার্গেট করে, তাদের নিন্দা ও শাস্তি বিধানের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।