মিডল ইস্ট মনিটর
ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠীর একজন শীর্ষ নেতা গত মঙ্গলবার হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল যদি লেবাননে তাদের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো অব্যাহত রাখে, তবে এর জবাবে তাদের ওপর বড় ও ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
হাউছি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্যানুযায়ী, গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ এই মন্তব্য করেছেন। গত মার্চের শেষের দিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের সমর্থনে হাউছিরা এই লড়াইয়ে যোগ দেয়, পাশাপাশি লেবাননে ইসরাইলি হামলার জবাবেও তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বৈরুত এবং তেলআবিবের মধ্যে চতুর্থ দফার আলোচনা চলমান থাকা অবস্থাতেও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লেবাননের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির মারাত্মক লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে।
আল-ফারাহ বলেন, ইসরাইলি শত্রুদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে লেবাননে যেকোনো লঙ্ঘনের উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে এবং দক্ষিণে থাকা তাদের সৈন্যরা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রতিদিনের হামলার মুখে পড়বে। যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির জবাবে বড় ও ব্যাপক পাল্টা আঘাত করা হবে। তিনি আরো যোগ করেন, ইসরাইলি শত্রুদের তাদের আক্রমণ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার অন্যতম কারণ ছিল বিগত ১৫ মাস সময়কাল, যার মধ্যে তারা কোনো প্রতিরোধের মুখোমুখি না হয়েই লেবাননে বোমা হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনে তেলআবিব এবং বৈরুতের মধ্যে আলোচনা চলা সত্ত্বেও লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর থেকে দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ১২ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছে।
লেবাননে হামলার নেপথ্যে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
আলজাজিরা জানায়, লেবাননে ইসরাইলের বর্তমান সামরিক অভিযানের পেছনে প্রকৃত নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দাবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সউফান সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক কলিন ক্লার্ক। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সঙ্ঘাতের পেছনে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, যার সাথে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি যুক্ত।
আলজাজিরাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ক্লার্ক উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধকে স্রেফ ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক টিকে থাকার লড়াইয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করার মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহু নিজের বিচারিক জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক কোণঠাসা অবস্থা এড়িয়ে চলছেন। সঙ্ঘাতের অবসান ঘটলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যন্তরীণ তীব্র চাপ ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
ক্লার্ক তার সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া ইসরাইলের পক্ষে এই যুদ্ধ মাসের পর মাস টেনে নেয়া অসম্ভব। ফলস্বরূপ, এই সঙ্ঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বহুলাংশে নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মর্জির ওপর। নেতানিয়াহু যেমন ট্রাম্পকে নিজের যুদ্ধনীতির পক্ষে প্রভাবিত করতে পারেন, ঠিক তেমনি ট্রাম্প অবস্থান পাল্টালে যুদ্ধ থামাতে চাপও দিতে পারেন। তাই এই সঙ্কটে ওয়াশিংটনের ভূমিকাই মুখ্য।
চলমান পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করা জরুরি বলে মনে করেন ক্লার্ক। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল সামরিক শক্তি খাটিয়ে সব রাজনৈতিক বা কৌশলগত ফায়দা তোলা যায় না। ইরানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তেহরান চাপের মুখে সহজে নতি স্বীকার করবে না কিংবা হাল ছাড়বে না। ইরান কোনো কাগুজে বাঘ নয় যে ভেনেজুয়েলার মতো এক রাতেই তাদের ছুড়ে ফেলা বা ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হবে। মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা ইরানের প্রকৃত সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি সামলানো আরো সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।



