নয়া দিগন্ত ডেস্ক
আফগান স্থলবাহিনী পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে কিল্লা সাইফুল্লাহ, নুশকি ও চামান জেলার ১৬টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। একই সাথে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও একাধিক স্থানে আক্রমণ হয়। মঙ্গলবার ভোরে এ সংঘর্ষে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, এতে ৬৭ জন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং একজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। এএফপি।
তিনি এক্সে দেয়া পোস্টে বলেন, প্রতিশোধমূলক হামলায় আফগান বাহিনীর ২৭ সদস্য নিহত হয়েছে। তারার আরো বলেন, আফগান বাহিনী উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ২৫টি স্থানেও আক্রমণ চালিয়েছে, যেখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ৪০ জন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে কাবুলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বৃহস্পতিবার থেকে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান উভয়ই দাবি করেছে পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে কাবুল গত রোববার পাকিস্তানি বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে আক্রমণ শুরু করেছিল। তারপর থেকে পাকিস্তান সীমান্তে অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুদ্ধে ৪৩৫ জন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত এবং ৩১টি অবস্থান দখল করা হয়েছে।
পাকিস্তান তার অভিযানগুলোকে আফগানিস্তানের সাথে একটি ‘খোলা যুদ্ধ’ হিসাবে বর্ণনা করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার জন্য তারা নিষিদ্ধ পাকিস্তানি তালেবান, যা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান নামে পরিচিত বা টিটিপিকে দোষারোপ করছে। যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়। ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে টিটিপির জন্য নিরাপদ আশ্রয় প্রদানের জন্য অভিযুক্ত করে, যা কাবুল অস্বীকার করে আসছে। সবশেষ অক্টোবরে কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত যুদ্ধ যুদ্ধবিরতির নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ইস্তাম্বুলে আলোচনা স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপি এবং পাকিস্তানে সহিংসতার পেছনে থাকা অন্য সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে বাস্তবসম্মত। তাই যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।



