বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলা থেকে বিদেশে চাকরি করতে গেছেন প্রায় সোয়া ৩ লাখ। আর চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে তা এখনো লাখ ছুতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে জনশক্তি রফতানির হার। জনশক্তি অফিস বলছে গত বছর যেখানে চট্টগ্রাম জেলা থেকে প্রায় ৪২ হাজার জনশক্তি রফতানি হয়েছিল, সেখানে গত ৫ মাসে গেছে মাত্র ৯ হাজারের কাছাকাছি। তবে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট কেটে গেলে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম এই খাত আবারো চাঙ্গা হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক কর্মকর্তা জানান, গেল বছর চট্টগ্রাম জেলা থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য ডাটা ব্যাংকে নাম নিবন্ধন করেছিলেন ৬৮ হাজার ১৫৪ জন। কিন্তু বিদেশ যেতে পেরেছিলেন ৪১ হাজার ৮৩৩ জন। আর চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম জেলায় বিদেশ যেতে নিবন্ধন করেছেন ৩১ হাজার ৪৬৯ জন। অথচ বিদেশ যেতে পেরেছেন মাত্র ৯ হাজার ১৮৮ জন। মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কারণে নিবন্ধন করলেও অনেকেই যেতে পারেননি বলেও জানান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩-৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এখানকার মানুষের মধ্যে এক চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাবার হার যেমনি কমেছে, তেমনি অনেক প্রবাসী কর্মীও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশেষত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। ফলে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘ মেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহে সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার চট্টগ্রামের মানুষের বেশ জনপ্রিয় গন্তব্য। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি তাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এই অস্থিরতার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেতে চাচ্ছেন না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি প্রেরণ কমে গেলেও ইউরোপ, জাপান, কোরিয়াসহ বেশ কিছু দেশে আগের চেয়ে বেশি লোকজন যাচ্ছে বলেও সূত্র জানায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরে আসা এক প্রবাসী কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর হতেই অধিকাংশ প্রবাসী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই কর্মচারীদের হাতে ব্যবসা রেখে দেশে এসে ব্যবসার সন্ধান করছেন বলেও তিনি জানান।
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস চট্টগ্রামের প্রধান মহেন্দ্র চাকমা নয়া দিগন্তকে বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধন, ফিঙ্গার, প্রশিক্ষণ দিচ্ছি আমরা। চট্টগ্রাম অফিস থেকে ৭টি দেশের ম্যানপাওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার অনুমতি আছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান ও সিঙ্গাপুর। বাকি দেশগুলোর অনুমোদন আসে ঢাকা থেকে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানির গতি বেশ কমেছে। সৌদি আরবে মোটামুটি যাচ্ছে। তবে সরকার সঙ্কট কাটাতে চেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারো জনশক্তি রফতানিতে গতি আসবে বলে আশাবাদী।



