রাশিয়া থেকে পাটগ্রামের যুবকদের ফেরত চায় পরিবার

Printed Edition

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠানো চার যুবকের পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অমানিষা। নির্ঘুম রাত কাটছে পরিবারগুলোর স্বজনদের মধ্যে।

চার যুবকের স্বজনরা গতকাল সোমবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের দাবি, যেকোনো মূল্যে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়া চার যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এর আগে ওই পরিবারগুলোর স্বজনরা একই দাবিতে স্থানীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও শহরের চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধন করেছেন। এভাবে তারা একের পর এক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এসব কর্মসূচিতে স্বজনদের কান্নাকাটি ও আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, স্থানীয় দালাল চক্রের সদস্য মরহুম আব্দুস সাত্তারের ছেলে ইউনুস আলী ও মাহিন ইসলাম রাশিয়ায় উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরি দেয়ার নাম করে টেপুরগাড়ি এলাকার দেলদার রহমানের ছেলে নাজমুল হক সৌরভ, একই এলাকার রাবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান, সর্দারপাড়া এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে আল আামিন এবং একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল্লা আল-মামুনের পরিবারের প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৯ লাখ করে টাকা নেন। এরপর ওই যুবকদের গত ৮ মে বাহরাইন হয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় নিয়ে যাওয়া হয়।

যেদিন তারা মস্কোয় পৌঁছে, সেদিন ওই যুবকরা পরিবারগুলোর সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু এরপর থেকে ওই যুবকদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এক পণ্য সরবরাহকারির মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা নিজেদের ‘জীবন ঝুঁকি’র কথা জানায় নিজ পরিবারের কাছে।

গতকাল সোমবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী মেহেদীর ফুফু রুপালী, নাজমুলের বোন সেলিনা, তার বড় বোন শারমীন, আল আমিনের বোন আশামনি, মেহেদীর মা সুলতানা পারভীন, আল আমিনের মা আলেয়া খাতুন, আল আমিনের ভাই সফিকুল ইসলাম, মেহেদীর চাচী ফরিদা বেগম, পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল প্রমুখ। স্বজনরা যেকোনো মূল্যে তাদের সন্তানদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।