নিজস্ব প্রতিবেদক
কোভিড-১৯’র নতুন ভ্যারিয়েন্ট সিকাদা বিশ্বের ২৩টি দেশে ছড়িয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এ ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম শনাক্ত হয়। এর স্পাইক প্রোটিনে এ পর্যন্ত ৭০ থেকে ৭৫টি পরিবর্তন বা মিউটেশন হয়েছে। এ কারণে বিজ্ঞানীরা এটাকে আগের ভ্যারিয়েন্টগুলো থেকে আলাদাভাবে দেখছেন। এটা দীর্ঘদিন শনাক্তহীন থাকার পর হঠাৎ করে বিভিন্ন দেশে শনাক্ত হতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল (সিডিসি) গত ১৯ মার্চ প্রথম নতুন এ ভ্যারিয়েন্টটি সম্পর্কে জানায়। নতুন এ ভ্যারিয়েন্টিকে বিএ.৩.২ বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিডিসি এবং জিআইএসএআইডি দক্ষিণ আফ্রিকা, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, জাপান, কেনিয়া, যুক্তরাজ্যে, ইটালি, ফ্রান্স, চেক রিপাবলিক, রোমানিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলে নতুন সিকাদা শনাক্ত হয়েছে বলে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। জিআইএসএআইডি বিশ্বের কোথাও নতুন কোনো সংক্রামক ব্যাধি শনাক্ত সেটা তাদের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত প্রকাশ করে। রোগ গবেষণাকরা এ ওয়েবসাইটি থেকে তথ্য নিয়ে থাকে।
ইউনিভার্সিটি অফ মিনোসোটার সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি (সিআইডিআরএপি) গত ২৩ মার্চ এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় কোভিড-১৯ এর নতুন এ ভ্যারিয়েন্টটিকে অত্যধিক মিউটেশন ক্ষমতা সম্পন্ন বা অতি পরিবর্তিত রূপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সিকাদার লক্ষণ আগের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের মতোই, নতুন কিছু নয়। তবে সিকাদা নতুন করে সামনে এসেছে বলে এটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
গত ১৯ মার্চের মর্বিডিটি অ্যান্ট মর্টালিটি উইকলি রিপোর্ট অনুসারে বিএ.৩.২ প্রথম ২০২৪ সালের নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয়। এর পরবর্তী বিএ.৩.২ এর দু’টি উপ-প্রজাতি বিএ.৩.২.১ এবং বিএ.৩.২.২ শনাক্ত হয়েছে। এটা ভাইরাসের নিরবচ্ছিন্ন বিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মধ্যে ইউরোপীয় তিন দেশ- ডেনমার্ক, জার্র্মানি ও নেদারল্যান্ডসে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের ৩০ শতাংশই ছিল নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট সিকাদা।
‘এ ভ্যারিয়েন্টটি শরীরের ইমিউন সিস্টেম ফাঁকি দিতে পারে, এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে’- এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাইরোলজিস্টরা বেশ চিন্তায় আছেন। এটা অবশ্য আগের মতো সর্দি, মাথাব্যথা, বিষন্নতা, হাঁচি ও কাশি, গলা ব্যথা এবং নাকের ঘ্রাণ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জেএন.১ ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় নতুন এ ভ্যারিয়েন্টটির স্পাইক প্রোটিনে যে ৭০ থেকে ৭৫টি পরিবর্তন হয়েছে সেগুলো আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর টিকা থেকে তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) কার্যকর না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সিডিসি বলছে, বিষয়টি উদ্বেগের। কারণ ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এমআরএনএ কোভিড ভ্যাকসিনগুলো জেন.১ ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। কিন্তু ল্যাবরেটরিতে গবেষণা থেকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাতটি ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে বিএ.৩.২’র বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি কার্যকারিতা ছিল সর্বনিম্নœ পর্যায়ে। এ কারণে বিজ্ঞানীরা বেশ উদ্বিগ্ন বিষয়টি নিয়ে।



