দিনরাত এসিতে থাকার স্বাস্থ্যঝুঁকি

Printed Edition

দীর্ঘ সময় ঠাণ্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া হঠাৎ গরম থেকে ঠাণ্ডায় বা ঠাণ্ডা থেকে গরমে গেলে শরীরে চাপ পড়ে। ফলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা হালকা জ্বরের মতো অনুভূতি হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে সর্দি-কাশি কিংবা সাইনাসের সমস্যাও বেড়ে যায়।

দীর্ঘ সময় এসি ব্যবহারের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে শরীরের আর্দ্রতার ওপর। এসি বাতাসের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া কিংবা চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। একইসাথে অজান্তেই শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন তৈরি হতে পারে, কারণ ঠাণ্ডা পরিবেশে সাধারণত তৃষ্ণা কম লাগে।

শ্বাসযন্ত্রের ক্ষেত্রেও কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে ধুলা, ফাঙ্গাস ও জীবাণু জমে যেতে পারে। এই দূষিত বাতাস দীর্ঘ দিন শ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করলে অ্যালার্জি, হাঁপানি বা অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের আগে থেকেই শ্বাসনালির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ ঠাণ্ডা পরিবেশে থাকলে পেশি ও জয়েন্টেও প্রভাব পড়তে পারে। অনেকের ঘাড়, কাঁধ বা হাঁটুতে ব্যথা অনুভূত হয়। একে অনেক সময় ‘এসি-ইনডিউসড মাসল স্টিফনেস’ বলা হয়। যারা দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে কাজ করেন, তাদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।

তবে এসির ইতিবাচক দিকও রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক, অতিরিক্ত ঘাম ও পানিশূন্যতা থেকে এটি সুরক্ষা দেয়। আরামদায়ক ঠাণ্ডা পরিবেশ ভালো ঘুমেও সহায়ক। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও এসি ভূমিকা রাখে।

তাই মূল বিষয় হলো এসির ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সবচেয়ে উপযোগী। দীর্ঘ সময় এসিতে থাকলে মাঝেমধ্যে খোলা বাতাসে যাওয়া ভালো। পর্যাপ্ত পানি পান, ত্বক ও চোখের যতœ নেয়া এবং এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। রাতে সরাসরি ঠাণ্ডা বাতাস শরীরে না লাগানো এবং হালকা কাপড় বা চাদর ব্যবহার করাও ভালো অভ্যাস। ইন্টারনেট।