রফিকুল হায়দার ফরহাদ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে
উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশের বহু ক্রীড়াবিদ ক্রীড়া সংগঠক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঠিকানা গড়েছেন। কেউ খেলতে এসে আর দেশে ফিরে যাননি। কেউবা পরবর্তীতে ইমিগ্রেন্ট হয়ে এই দেশগুলোতে স্থায়ী হয়েছেন। তবে বিদেশের মাটিতেও তারা ভুলতে পারেননি খেলা। মাটি, মাঠ এবং ফুটবলকে। তাই তারা যখনই সুযোগ পান খেলতে নামেন। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেন। টুর্নামেন্টের আয়োজকও হন। আবার এর বাইরে কোচিংও করান কেউ কেউ। মোহামেডান ও ইয়ংম্যান্স কাবের সাবেক গোলরক্ষক মোহাম্মদ হাকিম কানাডার টরেন্টোর বাইরে রিচমন্ড হিলে রিচমন্ড সকার কাবের প্রধান গোলরক্ষক কোচ। তার কাব খেলে ডিভিশন লিগ ৩-এ। আর বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক মিডফিল্ডার মারুফ আহমেদ কোচিং করাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন এফসির বয়সভিত্তিক দলে। দুই বছর ধরে এই টিমের অনূর্ধ্ব-১২ এবং অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হেড কোচ। গত বছর তার অনূর্ধ্ব-১২ দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এই বয়সশ্রেণীর টুর্নামেন্টে। এবার হয়েছে চতুর্থ।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে শীর্ষ কাবে খেলেছেন মারুফ। মোহামেডান স্পোর্টিং কাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র এবং লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি কাবের জার্সি গায়ে তুলেছেন। সিনিয়র জাতীয় দলে এই মিডফিল্ডারের প্রতিনিধিত্ব ছিল ২০০৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ ছাড়া বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে তার খেলা ২০০০ সাল থেকে। মোহামেডানের দুইবারের সুপার কাপ জয়ের সাক্ষী। তবে লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাদ পাননি। মারুফ যেবার মুক্তিযোদ্ধার অধিনায়ক ছিলেন সেবার ঢাকা আবাহনীর কাছে তাদের শেষ সময়ে জাহিদ হোসেনের জোড়া গোলে ২-৩-এ হারতে হয়েছিল। মারুফ জানান, আমরা সেই ম্যাচে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হতাম।
বাংলাদেশ থেকে একেবারে চলে আসার আগেই ‘সি’ লাইসেন্স কোচিং কোর্স করেছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে গিয়ে ‘বি’ লাইসেন্স এবং ‘এ’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। ওই কোচিং সার্টিফিকেটগুলোই মারুফকে যুক্তরাষ্ট্রের কাব ফুটবলে কাজ করতে দারুণ সহায়তা করছে।
ইস্টার্ন এফসি নিউ ইয়র্কের শীর্ষ লেভেলে খেলে। এই দলের অনূর্ধ্ব-৮ থেকে অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যন্ত বয়সভিত্তিক টিম আছে। প্রত্যেক কাবেরই এভাবে সব বয়সভিত্তিক দল থাকা বাধ্যতামূলক। এরপর এই বয়সভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে লিগ/টুর্নামেন্ট হয়। মারুফকে ইস্টার্ন এফসির নারী বয়সভিত্তিক দলের কোচ হতে বলা হয়েছিল। মারুফ টেকনিক্যাল কারণে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে পুুরুষ দলের সাথে কাজ করছেন।
কিছুদিন আগে তার কাবের তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এসেছিলেন। সেখানে মারুফ বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ ও চীনের ম্যাচের ভিডিও কিপ তাদের দেখান। মারুফ জানান, ‘তারা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের এই অগ্রগতিতে দারুণ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়েছিলেন।’ মারুফ নিজেও আফঈদা, মণিকা, মারিয়া, ঋতুপর্ণাদের ভক্ত। তার মতে, ‘আমি যখন ঢাকায় এএফসি ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করি তখন আমার সামনেই এই নারী ফুটবলের উত্থান পর্ব দেখেছিলাম। এখন তারা ভালো করছে। আমি এতে খুবই গর্বিত। সে সাথে বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবলে ফের নবজাগরণ শুরু হয়েছে হামজা চৌধুরীরা আসার পর।’ জানান, ‘বাংলাদেশের ফুটবল এই ভালো করায় আমরাও এখন যেকোনো জায়গায় বায়োডাটা জমা দিলে মূল্যায়ন পাই। কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ সুবিধা হয়।’
সেই সাথে বাংলাদেশীদের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজকদের একজন এই মারুফ। সেখানে শফিকুল ইসলাম মানিক, সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বিররা খেলে গেছেন। জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আতিকুল ইসলাম তারেকও ২০২২ যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছেন। তিনিও খেলেছিলেন এই বাংলাদেশীদের ব্রোন্স ইউনাইটেডের হয়ে। এখন তিনি চাকরি নিয়ে মহা ব্যস্ত। জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল এবং ডিফেন্ডার রায়হান হাসানও ঠিকানা গড়েছেন আমেরিকায়। সোহেল রেস্টুরেন্ট দিয়েছেন। রায়হান চাকরি করছেন। তারাও খেলেন এই ব্রোন্স ইউনাইটেডের হয়ে। পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে এসেছেন বর্তমান জাতীয় দলের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। তিনিও এই দলের হয়ে খেলছেন।
১৯৯৯-এর সাফ গেমস ফুটবলে স্বর্ণজয়ী ও ২০০৩ সাফ জয়ী বাংলাদেশ দলের মিডফিল্ডার মনোয়ার হোসেন। ২০১৫ সাল থেকে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফোরিডাতে। তিনি মোবাইলের দোকান দিয়েছেন। সেখানে তার ২০টি দোকান। বিভিন্ন মলে এই দোকানগুলোর অবস্থান। ১৯৯৯-এর সাফ গেমসে স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জুয়েল রানা থাকেন ভার্জিনিয়াতে।



