আলজাজিরা
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব হামলায় একজন উদ্ধারকর্মীসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৫৯ জনে।
শুক্রবার লেবাননের তোরা শহরে বিমান হামলায় দুই নারীসহ জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ এক কিশোরীর সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। ব্লাত শহর থেকে নিখোঁজ দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে রেড ক্রস। হাসবায়া জেলায় ড্রোন হামলায় একজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নাবাতিয়েহ ও সিডনসহ বিভিন্ন গ্রামে নিহতের খবর পাওয়া গেছে। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং নতুন করে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্য দিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত তিনজন ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছে।
সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করবে। আলোচনার লক্ষ্য হলো সীমান্ত নির্ধারণ, সেনা প্রত্যাহার ও লেবাননে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, তারা সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারণ এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করবেন।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় আস্থাহীনতা
লেবাননে চলমান ইসরাইলি হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতির আলোচনায় দেশটির জনগণের মধ্যে তেমন কোনো আস্থা নেই। বরং এটি আত্মসমর্পণের আলোচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বৈরুতভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রানিয়া খালেক গতকাল শনিবার আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, লেবাননের অনেক মানুষ ওয়াশিংটনের আলোচনাকে প্রকৃত অর্থে শান্তি আলোচনা হিসেবে দেখছেন না। বরং তাদের কাছে এটি আত্মসমর্পণের আলোচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খালেকের মতে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা। অথচ লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেয়া কিংবা ইসরাইলি হামলা বন্ধ করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, লেবাননের শিয়া সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি হামলা, বোমাবর্ষণ ও বাস্তুচ্যুত হলেও তাদের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না।
তার দাবি, এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা নিয়ে কোনো বাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হয়নি। বরং কেউ কেউ আলোচনাকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন না। ফলে তীব্র চাপের মধ্যেও দেশটিতে চলমান সংঘাত নিরসনের আলোচনা ভেস্তে যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতিও পুরোপুরি থেমে নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের নেতৃত্বকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, দ্রুত চুক্তিতে রাজি না হলে তেহরানকে আরো কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।



