নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন। গতকাল রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সংশয় প্রকাশ করেন।
ড. মাহাদী আমিন বলেন, জামায়াত আমিরের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে নারীদের উদ্দেশে যে ‘অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ’ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে আলোচনা চলছে, তা যদি সত্য হয় তবে এটি সমাজকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার শামিল। ৩১ জানুয়ারি বিকেলে দেয়া ওই পোস্টটি যদি একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত বিশ্বাস হয়, তবে তা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক। তিনি আরো বলেন, এর আগেও আলজাজিরায় দেয়া সাক্ষাৎকারে নারীদের নেতৃত্ব নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য এবং নারী কর্মীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার মতো পশ্চাৎপদ বক্তব্য দিয়েছেন দলটির প্রধান।
জামায়াত নেতাদের দাবি অনুযায়ী ৪টা ৫৫ মিনিটে আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানলেও কেন ১২ ঘণ্টা পর জিডি করা হলো, সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্ন তোলেন মাহাদী আমিন। তিনি বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ যখন ক্ষুব্ধ হলেন, তখন কেন এত দেরিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হলো? আবার দাবি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আইডি ফিরে পাওয়ার বিষয়টিও জনমনে রহস্য তৈরি করেছে। মানুষ এসবের যৌক্তিক উত্তর চায়।’
উল্লেখ্য যে, হ্যাক হওয়ার বিষয়টি গতকাল ৫টা ২২ মিনিটে জামায়াতের আমিরের আইডি থেকেই এক ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হয়। একই সাথে আইডি উদ্ধারের বিষয়টিও জানানো হয়।
বিএনপির মুখপাত্র অভিযোগ করেন, যে দল ইনসাফ কায়েমের কথা বলে, তারা আসন্ন নির্বাচনে একটি আসনেও কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। অথচ তাদের নারী কর্মীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, জামায়াত প্রধান পদে নারীর আসার সুযোগ নেই বলে ঘোষণা দেয়া এবং জোটভুক্ত নারী নেত্রীদের পোশাক বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা চরম রুচিহীনতা ও নারীবিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। এই পরিস্থিতির কারণে জোটের অনেক নারী নেত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
মাহাদী আমিন অভিযোগ করেন, বিএনপির নারী প্রার্থী এবং নারী কর্মীদের অনলাইন ও অফলাইনে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিএনপি সর্বদা নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সম-অধিকারের পক্ষে এবং কোনো সভ্য সমাজে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক ভাষা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।



