গত ২০-২২ মার্চ মাসে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে হয়ে গেল অষ্টম নেকোস আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় বিকেএসপির ফাবিহা বুশরা প্রতিপক্ষ নেপালের শক্তিশালী জুডো খেলোযাড়কে হারিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে স্বাগতিক নেপালসহ বাংলাদেশ ও ভুটানের প্রায় ৩০০ জন জুডোকা অংশগ্রহণ করেন। এ সাফল্যের আগে ফাবিহা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ও সিনিয়র জাতীয় জুডোতে অংশ নিয়ে স্বর্ণ জয় করেন।
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তৃণমূলে বাছাইয়ে বাগেরহাট সদর থানা থেকে উঠে আসা ফাবিহা বুশরা (১৮) সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর ক্রিকেট দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে জুডো খেলাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন। বর্তমানে বিকেএসপি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক বিভাগের ছাত্রী ফাবিহা বুশরা বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমি অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিততে চাই। অলিম্পিকে আমার স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন। তাতে বিকেএসপির পাশাপাশি দেশের সুনাম অর্জন করব।
পিতৃহারা ফাবিহা ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। মা মনিরা পারভীনের উৎসাহে এ অবস্থানে আসা। ফাবিহা আরো বলেন, ‘নেপালে খেলার সময় আমি খুবই আত্মবিশ^াসী ছিলাম। দেশের ক্রীড়ামোদি মানুষকে ঈদের সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম এবং সেটি পেরেছি। আমি কৃতজ্ঞ আমার কোচ মো: আবুকবর ছিদ্দিক, ফারহানা হালিম নাইস এবং জাহাঙ্গীর আলম রনির প্রতি। তাদের আন্তরিক কোচিং এবং সার্বিক সহযোগিতার ফসল এই পদক। স্বর্ণপদক পেয়ে দেশে ফেরার পর বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ ভবিষ্যতে আরো আন্তর্জাতিক পদক পাওয়ার জন্য উৎসাহ ও প্রেরণা দেন।’
কোচ ইনচার্জ (জুডো) মো: আবুবকর ছিদ্দিক বলেন, ‘তৃণমূল থেকে উঠে আসা মেয়েটি ক্যাম্পে থাকাকালীন সময়ে শুরুতে ক্রিকেট তার পছন্দ ছিল এবং খেলা শুরু করলেও পরবর্তীতে তার আগ্রহ এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সে জুডো প্রশিক্ষণ শুরু করে। সে তার প্রতিভা দিয়ে সবার নজর কেড়েছে। ভদ্র এবং প্রশিক্ষণে মনোযোগী ফাবিহার ভালো দিক হলো, সে কখনো নার্ভাস ফিল করে না।’



