রেললাইন যেমন সমান্তরাল দু’টি পাতের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকে, সংসদের কার্যকারিতাও তেমনি সরকারি দল ও বিরোধী দলের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। এ দুই পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও গঠনমূলক তর্কের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়নের চাকা সচল থাকে। জাতীয় সংসদকে যদি রেললাইনের সাথে তুলনা করা হয়, তবে গণতন্ত্র সে লাইনের ওপর দিয়ে চলা এক শক্তিশালী ইঞ্জিন। রেললাইনে যদি ফাটল ধরে বা ভারসাম্য নষ্ট হয়, তাহলে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁঁকি বাড়ে, সংসদের কার্যক্রমে স্থবিরতা বা অসহিষ্ণুতা দেখা দিলেও রাষ্ট্রের অগ্রগতি ব্যাহত হয়। তাই রেললাইন যেমন নিরবচ্ছিন্ন পথ চলার নিশ্চয়তা দেয়, সংসদকেও তেমনি জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি রাষ্ট্রকে উন্নয়নের শেষ স্টেশনে পৌঁছে দিতে হয়। দৈনিক নয়া দিগন্তের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারি দলের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বরগুনা-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি এসব কথা বলেন।
নয়া দিগন্ত : বলা হয়ে থাকে, সংসদের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা থাকবে, আপনি কি তা মনে করেন?
নুরুল ইসলাম মনি : গণতন্ত্রের নিয়মই হচ্ছে সংসদের কাছে সরকার দায়বদ্ধ থাকবে। এখানে বিষয়টা হচ্ছে বিগত দিনে সংসদ কার্যকর হয়নি কারণ গনতন্ত্রের প্রকৃত কার্যকারিতাই ছিল না। সুতরাং আমরা সর্বোতভাবে চেষ্টা করবো যেন সংসদের কাছেই সরকার দায়বদ্ধ থাকে এবং দেশের সব সমস্যা সংসদেই যেন আসে, আমরা চাই চুলচেরা বিশ্লেষণ হোক, তার সমাধান সংসদেই হোক। এ জন্য যে পদ্ধতি রয়েছে সে পদ্ধতি অনেক ভালো। যেমন প্রশ্ন উত্তর পর্ব আছে, ৭১ বিধি আছে, বিভিন্ন ধরনের নোটিশ দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও সরকারকে দায়ী করার জন্য বিভিন্ন প্রকার পদ্ধতি রয়েছে। যেমন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়াতে পারে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করা যায়, ৬৮ বিধিতে নোটিশ করে অলোচনা করা যায়। এর বাইরেও অন্য কোনো নিয়ম আছে কি না সেটি আমরা সংসদীয় কমিটি স্টাডি করে দেখছি। আমাদের সহযোগিতা করতে বাইরের দেশ থেকেও যারা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ তাদের সহযোগিতা নেয়া হবে। কিভাবে সংসদকে আরো প্রাণবন্ত ও সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখা যায় সে বিষয়ে কাজ করছি।
নয়া দিগন্ত : সরকার ও বিরোধী দলের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের ওপর সংসদের কার্যকারিতা নির্ভরশীল, সেক্ষেত্রে বিরোধী দলের সাথে সম্পর্কের অবনতি বা অগ্রগতি কিভাবে দেখছেন।
নুরুল ইসলাম মনি : প্রথমত, বিরোধী দলের সাথে আমাদের সম্পর্কের কোনো অবনতিই হয়নি। দ্বিতীয় হলো পার্লামেন্টের সিস্টেমই হলো রেললাইনের মতো। রেললাইন যেমন সমান্তরাল দু’টি পাতের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকে, সংসদের কার্যকারিতাও তেমনি সরকারি দল ও বিরোধী দলের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। এ দুই পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও গঠনমূলক তর্কের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়নের চাকা সচল থাকে। বিরোধী দল এবং সরকারি দল, দুই দলের মধ্যেই সম্পর্ক থাকতে হবে। আমি আপনাকে পছন্দ করবো বা আপনি আমাকে পছন্দ করবেন না এ মনোভাব নিয়ে সংসদে আসলে লাভ কি?
নয়া দিগন্ত : সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন।
নুরুল ইসলাম মনি : আমার খুব ভালো লেগেছে যেমন বিরোধী দলের নেতা বিভিন্ন সময় বলেন যে, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। আমরা আপনাদের পরামর্শ দিতে চাই। আমরা কন্ট্রিবিউট করতে চাই। এটা একটা ভেরি পজেটিভ এপ্রোচ বলে আমি মনে করি। বিরোধী দলের সাথে সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে আমি মনে করি এ সব কারণে। রাস্তায় পলিটিক্স-এর বিষয়টা ভিন্ন বিষয়; কিন্তু পার্লামেন্টে এ বিষয়ে তারা খুব কনসার্ন। তাদের এমন আচরণ আমি খুব পছন্দ করেছি এবং এটা আমি মনে করি উত্তরোত্তর আরো বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে আমাদের সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তিনি অত্যন্ত উদার এবং সংসদ কার্যকরী হোক- এ ব্যাপারে একইসাথে সরকার বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে একটা আন্ডারস্টেন্ডিং থাকুক, হারমোনিয়াস পরিবেশ বজায় থাকুক, সে জন্য তিনি নিজেও কাজ করেন। এ বিষয়টাতে সংসদ নেতা খুবই সিরিয়াস। আমি মনে করি এ বিষয়গুলো যদি মূল্যায়ন করি তাহলে পার্লামেন্টের যে অবস্থা আছে; ভবিষ্যতে তার চেয়েও পরিবেশ উত্তরোত্তর উন্নতি ঘটবে।
নয়া দিগন্ত : সংসদে প্রশ্ন-উত্তরসহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধী দল অসন্তোষ প্রকাশ করে থাকে, এটাকে কিভাবে দেখছেন।
নুরুল ইসলাম মনি : পার্লামেন্টে কোনো খারাপ অবস্থা নেই এখন। সংসদ থেকে বিরোধী দল ওয়ার্ক আউট করে, এটা তো সংসদীয় ট্রেডিশন, ডেমোক্র্যাটিক রাইট, তারা যেকোনো বিষয়ে প্রতিবাদ জানাবে এটাই স্বাভাবিক। ছোট বাচ্চা আপনি কাঁদতে দেখেছেন কখনো? সে হাঁটতে পারে না, কথা বলতে পারে না, চলতে পরে না, তার ভালো লাগছে না, ক্ষিধা লাগছে সে বলতে পারে না, তখন প্রতিবাদে কান্না করে। বাচ্চার এ কান্নায় তো অসুবিধা নেই। সে তার ভালো লাগা বা মন্দ লাগার বিষয়টা কান্নার মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আমি সরকারি দল একটা কাজ করলাম, বিরোধী দলের ভালো লাগলো না, ওনারা এ বিষয়ে কথা বলেন, সন্তুষ্ট না হলে ওয়ার্ক আউট করেন। ইট ডাজ নোট মিন দ্যাট উই আর লুজিং আওয়ার আন্ডারস্টেন্ডিং। এটাই নিয়ম। আমরা চাই পার্লামেন্ট কার্যকর করার জন্য ওনাদের যে সম্পর্ক এখনো আছে, চমৎকার সম্পর্ক, কে কিভাবে দেখে আমি জানি না, চিফ হুইপ হিসেবে আমি দেখি, চমৎকার সম্পর্ক আমাদের। এটি বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। দেখি না এ কারণে যে, বিরোধী দলের বেশ কিছু সেনসিভল এবং এডুকেটেড মানুষ আছেন। বিশেষ করে বিরোধী দলের সংসদ নেতা তিনি যেভাবে কথা বলেন, তা আমার কাছে খুবই পছন্দ হয়। তিনি সংসদকে কার্যকর করার জন্য তার সাজেশন ফরোয়ার্ড করতে চান, বলতে চান।
নয়া দিগন্ত : আপনি কি বিরোধী দলের আচরণে সন্তুষ্ট?
নুরুল ইসলাম মনি : আমি পার্লামন্টে বিরোধী দলের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। আই এম ভেরি হ্যাপি। স্পেশালি লিডার অব দি অপজিশন, তিনি ভেরি সেনসেভল কথাবার্তা বলে থাকেন এবং তার যে টার্গেট গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, আমি মনে করি ওনার মতো মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশের জন্য অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে এবং আমি মনে করি তিনি সেটা রাখবেনও। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন, সে কারণে অনেকেরই নিয়মনীতি বা বিধির বিষয়ে অবগত না থাকাই স্বাভাবিক। সে সংক্রান্ত বিষয়ে তার অবগত না থাকাই স্বাভাবিক, সে সংক্রান্ত বিষয়ে তো আমাদের সবারই ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতেই পারে, আদারওয়াইজ আমি বলি সবার মধ্যে গুড রিলেশন।
নয়া দিগন্ত : সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিগুলোকে আধুনিকায়ন করা দরকার বলে অনেকেই মনে করছেন, এ বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?
নুরুল ইসলাম মনি : সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিগুলো আরো আধুনিকায়ন করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। অলরেডি কার্যপ্রণালী বিধির আধুনিকায়নে জাস্ট মিটিং করে আসলাম, আরো মিটিং হবে। কার্যপ্রণালী বিধির মধ্যে আমাদের অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে, অনেক অসঙ্গতি আছে, অনেক কিছু আপডেটেড করা দরকার। মূলকথা এসবকে যুগোপযোগী করা দরকার। সে কারণে আমরা শিগগিরই একটি কমিটি করে দিবো, পার্লামেন্টারি কমিটি, কার্যপ্রণালী বিধির কমিটি করব, সে কমিটি বসে আমরা কার্যপ্রণালী বিধির আধুনিকায়ন করব।
নয়া দিগন্ত : কোরাম সঙ্কটের কারণে সংসদ অধিবেশন শুরু হতে দেরি হয়, এমন অভিযোগের বিষয়ে কী বলবেন?
নুরুল ইসলাম মনি : এ প্রশ্নটা করার জন্য আমি কষ্ট পেলাম। কোরাম সঙ্কটের কারণে আমাদের সংসদ শুরু হতে দেরি হয়েছে- এ রকম কোনো নজির নেই। এক মিনিটও দেরি হয়নি। অতীতে কী হয়েছে সেটি জানি না। ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতে দেখা যাবে। আপনি লিখবেন এ প্রথম দেখলাম যে, ইন টাইম সংসদ বসেছে। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রথম হাউজে আসছেন প্রত্যেক দিন। এ পর্যন্ত তিনি এক দিন আসতে পারেন নি। আর কোনো দিন তিনি মিস করেনি। ফুলটাইম তিনি হাউজে থাকেন। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। আপনিই বলেন ঠিক কি না।
নয়া দিগন্ত : সংসদে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কী?
নুরুল ইসলাম মনি : সংসদে শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে দুই ধরনের পরিস্থিতি আছে। একটি হলো সংসদের অফিসার্স আর অন্যটি হলো সংসদ সদস্যরা। সংসদ সদস্যরা কোনো শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন না। আমাদের দেশে এখনো সে রকম কিছু এখনো হয়নি। হলে তখন দেখা যাবে।
নয়া দিগন্ত : ত্রয়োদশ সংসদের প্রায় অধিকাংশই নতুন, এদের বিষয়ে আপনার নেয়া পদক্ষেপগুলো কী?
নুরুল ইসলাম মনি : আমাদের প্রায় ২২০ জন সংসদ সদস্য নতুন। সংসদের রীতি নীতি বুঝতে দুই-তিনটা সেশন চলে যাবে। আমি মনে করি একজন পুরনো মানুষ হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে তাদের আপডেটেট করা এবং প্রস্তুত করা। সংসদকে কার্যকরী করা, প্রাণবন্ত রাখা, এগুলো আমার ভালো লাগে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই আমাকে ডিসাইড করে এখানে বসিয়েছেন। সুতরাং আমি যেভাবে পার্লামেন্টে হারমনিয়াস, ভালো এরেজমেন্ট রাখা দরকার, সেটা আমি শতভাগ রাখার চেষ্টা করি। আমি নিজেকে সাকসেস হয়েছি বলব না, তবে আনসাকসেস হয়েছি, সে রকম কিছু করিনি। বাইরে থেকে আপনারা বলতে পারবেন আমার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি আছে কিনা। সবাইকে নিয়েই সংসদকে প্রাণবন্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবো।
নয়া দিগন্ত : সংসদের ভেতরে ও বাইরে সদস্যদের কার্যক্রমকে কিভাবে দেখছেন?
নুরুল ইসলাম মনি : সংসদের বাইরে কার্যক্রম বলতে একটি লাইন আছে, সেটি হলো, সবার আগে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয় এমন জায়গায় আমরা সামনে থাকব। স্বার্থ বিনষ্ট হয় এমন বিষয় থেকে আমরা দূরে থাকব। দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যা যা করার দরকার তাই আমরা করব।
নয়া দিগন্ত : অন্য দেশের সংসদের কার্যক্রমের সাথে আমাদের সংসদকে কিভাবে তুলনা করবেন?
নুরুল ইসলাম মনি : অন্য দেশের সংসদের কার্যক্রমের তুলনায় আমরা যে খুব পিছিয়ে আছি তা কিন্তু নয়। পিছিয়ে আছি অন্য জায়গায়। ডেমোক্র্যাটিক সিস্টেমটাকে আমরা বিল্ডআপ করতে পারিনি। সে সিস্টেমটা বিল্ডআপ হলে সংসদ অটোমেটিকেলি বিল্ডআপ হয়ে যাবে। সংসদে আমরা তিন শ’ জন এমপি বসছি। এখন বাইরে পরিস্থিতি যে রকম হোক আমাদের মধ্যে ডেমোক্র্যাসি, আন্ডারস্টেন্ডিং থাকতে হবে। যেমন তেলের কথা বলি, তেলের সঙ্কটটা কি আমরা সৃষ্টি করেছি? এটা তো গ্লোবাল প্রভলেম। আন্তর্জাতিক সমস্যা আমরা শক্ত হাতে মোকাবেলার চেষ্টা করছি। তারেক রহমান যা যা চেষ্টা করছেন এর বাইরে আর কী চেষ্টা করার আছে। চেষ্টা তো আন্তরিকভাবে করছি। প্রধানমন্ত্রী তার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন, এখনো করে যাচ্ছেন। তাই তাকে সাধুবাদ দেয়াই উচিত। এ ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।
নয়া দিগন্ত : সংসদের ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ বাতিল হয়, আপনি কি মনে করেন, এ নিয়মটি আরো কঠিন হওয়া উচিত?
নুরুল ইসলাম মনি : সংসদের কার্যদিবস ৯০টা হতে হলে কমপক্ষে তিনটা সেশন লাগবে। এর চেয়ে আর কী করা যায়। এটা কমানো যায় না। অন্য দেশে কী আছে আমি জানি না।
নয়া দিগন্ত : সংসদ অধিবেশন কক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্পিকার প্রায়ই নোটিশ করছেন, আপনি বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন?
নুরুল ইসলাম মনি : সংসদে অধিবেশন চলাকালে শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রত্যেক সদস্যের কর্তব্য। তবে নিয়মকানুনগুলো আয়ত্ত করতে কিছু সময় লাগবে। আমরা হাউজে সবাই মোবাইল ব্যবহার করবো তবে সেটা সাইলেন্ট থাকবে। তিনি দেখবেন তার ফোন আসছে। প্রয়োজন হলে যদি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তাহলে সংসদ লবিতে গিয়ে কথা বলবেন, নট ইন দা হাউজ। পার্লামেন্টের মধ্যে কথা বলা যাবে না। আমি এ বিষয়ে একটা নোটও দিবো। এটা সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা ছাড়া সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে বাইরে গিয়ে কথা বলবেন। এ ছাড়া অন্য বিষয়গুলো স্পিকার তো বলেছেনই।
নয়া দিগন্ত : আপনাকে নিয়ে প্রকাশিত কার্টুন শেয়ার করায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এখানে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না?
নুরুল ইসলাম মনি : আমাকে নিয়ে যদি কেউ কার্টুুন আঁকে, সে কারণে বা সেটি শেয়ার করার কারণে কাউকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাকে ইমেডিয়েটলি যেন ছেড়ে দেয়া হয়। সেটা আমি সংসদেও বলেছি। তাকে ছেড়েছে কি না আমি জানি না। আমি তো বলে দিয়েছি। তবে আমার বিরুদ্ধে কতগুলো পোর্টাল দীর্ঘদিন ধরে কোনো দলের হয়ে লেখালিখি করছে। মানহানিকর, অসম্মানজনক, অসৌজন্যমূলক, মিথ্যা, গুজব, এ রকম নানা নিউজ করছে। আমি এসব বিষয়ে থানায় জিডি করেছি। এদের সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলেছি। এর মধ্যে পুলিশ একজনকে ধরেছে। সে নানা অপরাধে জড়িত এবং ঢাকা-১৩ আসনে সে একটি পার্টিকুলার পার্টির প্রচার কমিটির প্রধান ছিল। কয়েকদিন আগে আমার নির্বাচনী এলাকা পাথরঘাটায় ডিজিএমের নাম দিয়ে সংবাদ করেছে, প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হবে। ওখানে তো মাছের আড়ৎ, মাছ সংরক্ষণ করে। ব্যবসায়ীরা সবাই ডিজিএমের কাছে গেছে এবং বলেছে স্যার ২ ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হলে আমরা মাছ রাখবো কোথায়। সব মাছ তো নষ্ট হয়ে যাবে। পরে শুনলাম, যে এ গুজব ছড়িয়েছে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ গুজব ছড়িয়ে মিথ্যা অপতথ্য দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট, আমার ভাবর্মূতি নষ্ট করার সাথে জড়িতদের যদি গ্রেফতার করে ,যদি ওই লোকই এ লোক হয় তাহলে তাকে আমি আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করব। যদি ওই লোক না হয় তাহলে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানাব। আমি যাকে চিনি সেই লোক যদি এ লোক হয় তাহলে বিচার হওয়া উচিত। এ রকম গুজব শুধু আমার একার বিরুদ্ধেই করছে না, বিরোধী দলের নেতাদের বিরদ্ধেও করছে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধেও করছে। এটা তো ভয়াবহ অন্যায়। এদের থামানো উচিত। ঐক্যবদ্ধভাবে এদের মোকাবেলা করতে হবে।
নয়া দিগন্ত : গণভোট ও বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বেশ তর্ক-বিতর্ক দেখা যাচ্ছে, এটাকে কিভাবে দেখছেন?
নুরুল ইসলাম মনি : সংসদে তর্ক-বিতর্ক হওয়াটাই স্বাভাবিক, এটি না হলে তো সংসদ প্রাণবন্ত হয় না। এখানে সব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা ও বিতর্ক হবে, এটাই কাক্সিক্ষত। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে রাষ্ট্রপতি যে আদেশটি জারি করেছিলেন, তা প্রচলিত কোনো আইন বা বিধির আওতায় পড়ে না। এ কারণেই আমরা বলছি, আইনগত ভিত্তিহীন কোনো আদেশ সংসদে পাস হতে পারে না। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলছি যে, জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় আমরা বাস্তবায়ন করব। আমাদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



