শাহেদ মতিউর রহমান
নতুন শিক্ষাবর্ষে যেসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির আবেদন করেছেন এবং পছন্দের কলেজও পেয়েছেন তাদেরকে আজ শুক্রবারের মধ্যে নিশ্চায়ন করতে হবে। অন্যথায় নির্ধারিত কলেজের মেধা তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ যাবে। প্রথম ধাপে কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিলেন ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ জন শিক্ষার্থী। তারা সবাই পছন্দের কলেজ পাননি। তবে হতাশার কোনো কারণ নেই। কেননা আগামীকাল শনিবার থেকে দ্বিতীয় ধাপের কলেজ বাছাইয়ের নতুন আবেদন শুরু হবে। এই পর্বও চলবে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। তবে প্রথমে বাছাইয়ে যারা পছন্দের কলেজ পাননি তাদেরকে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে ২৮ আগস্ট।
সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপেও যারা পছন্দের কলেজ পাবেন না তাদের জন্য তৃতীয় এবং শেষ ধাপে ৩১ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর আবার আবেদন করা যাবে। আর এই ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে ৩ সেপ্টেম্বর। সব প্রক্রিয়া শেষ করে সেপ্টেম্বর মাসের ৭ থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তাদের পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের সব কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে একাদশের ক্লাস শুরু করতে হবে। যদিও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র আগে থেকেই জানিয়ে আসছে যে, কলেজে ভর্তির জন্য সিট না পাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। কেননা সব কলেজ মিলে মোট আসন সংখ্যা ২২ লাখেরও বেশি। আর এ বছর এসএসসি পাস করেছে মাত্র ১৩ লাখের মতো শিক্ষার্থী। অর্থাৎ সব শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পরেও আরো প্রায় সম পরিমাণ আসন ফাঁকাই থাকবে।
এ দিকে প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে যেসব শিক্ষার্থী কলেজ পেয়েছেন, তাদের নিশ্চায়ন ফি পরিশোধ করে নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফি বা নিশ্চায়ন ফি দেয়ার জন্য বিকাশ, সোনালী ই-সেবা, সোনালী ওয়েব, ইউসিবি উপায়, ডিবিবিএল রকেট, ওয়ান ব্যাংক ওকে ওয়ালেট, ট্রাস্ট ব্যাংক ট্যাপ ও নগদের মধ্যে যেকোনো একটি থেকে ৩৩৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের পদ্ধতির বিস্তারিত ভর্তির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য কলেজ ভর্তি নিশ্চায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এর উপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পরবর্তী দুই বছর। কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে আবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায় প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের কলেজে স্থান পান। এই ধাপে সাধারণত ৬০-৭০ শতাংশ আসন পূরণ হয়ে যায়। মেধাতালিকা প্রকাশের পরবর্তী ৩-৪ দিনের মধ্যে এই ধাপের শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হয়। যারা প্রথম ধাপে নির্বাচিত হননি বা নিশ্চায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারেন। এই ধাপে অবশিষ্ট আসনসমূহ পূরণ করা হয়। মাইগ্রেশন সুবিধাও এই ধাপে কার্যকর হয়। তৃতীয় ধাপ মূলত সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে কাজ করে। এখানে খুবই সীমিতসংখ্যক আসন পাওয়া যায়। যারা দ্বিতীয় ধাপেও কোনো কলেজে ভর্তি হতে পারেন না, তাদের জন্য এটি শেষ আশ্রয়।
তবে দ্বিতীয় ধাপের আবেদনে কিছুটা জটিলতাও হতে পারে শিক্ষার্থীদের জন্য। নিশ্চায়ন না করলে শিক্ষার্থীর নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেধাতালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী ধাপে নতুনভাবে আবেদন করতে হয়। তবে প্রতিটি পরবর্তী ধাপে আসন সংখ্যা কমে যাওয়ায় পছন্দের কলেজে ভর্তির সম্ভাবনা হ্রাস পায়। যারা কৌশলগত কারণে প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন এড়িয়ে আরো ভালো কলেজের আশায় অপেক্ষা করেন, তাদের জন্য ঝুঁকিও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। কারণ মাইগ্রেশন সুবিধা সীমিত এবং উন্নত কলেজে আসন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
মাইগ্রেশন সুবিধা হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে নিশ্চায়নকৃত কলেজ থেকে আরো ভালো কলেজে স্থানান্তরিত হতে পারেন। তবে এই সুবিধা কেবলমাত্র তখনই পাওয়া যায় যখন উন্নত কলেজে খালি আসন থাকে। মাইগ্রেশনের জন্য শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে আবেদন করতে হয় না। স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে যারা উন্নত কলেজে স্থান পাওয়ার যোগ্য, তারা মাইগ্রেশনের সুযোগ পান।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার সারা দেশে ৯ হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণীতে মোট আসন রয়েছে ২২ লাখ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ৯ লাখ আসন এবং সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিকে রয়েছে আরো দুই লাখ ৪১ হাজার আসন। সামগ্রিকভাবে একাদশে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ৩৩ দশমিক ২৫ লাখ। অথচ এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩ লাখ তিন হাজার ৪২৬ জন শিক্ষার্থী।



