নিজস্ব প্রতিবেদক
গণহত্যার বিচার না হলে জনতার আদালতে এই সরকারের বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতির প্রত্যাশা ছিল প্রথমে গণহত্যার বিচার, এরপর রাষ্ট্র সংস্কার এবং সর্বশেষ নির্বাচন। কিন্তু বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কার সম্পন্ন না করেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মানববন্ধন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান, চিফ প্রসিকিউটর ও রেজিস্ট্রারের কাছে সাত দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপির সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছেÑ জুলাই ২০২৪-এর গণহত্যার প্রধান ঘটনাস্থলগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা, পলাতক ও কর্মরত অভিযুক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আইনের আওতায় আনা, দেশের সব জেলায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপে তদন্ত শেষ করা, সাীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণহত্যা অস্বীকার বা বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, গুম ও গুম-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরো বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। দলীয় বিবেচনায় চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের ফলে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। গণহত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সাথে প্রশাসনের যেসব ব্যক্তি অতীতের শাসনামলে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের চেয়ে নির্বাচনের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী গণহত্যা ও ফৌজদারি অপরাধে জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যেসব নেতা গণহত্যার সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় গড়িমসি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বিচার কার্যক্রম তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জুলাই শহীদ মেহেদী হাসান জুনায়েদের পিতা শেখ জামাল হোসেন ও শহীদ আলিফের পিতা গাজিউর রহমান। শেখ জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, তার সন্তানের হত্যা মামলার রায়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, প্রকৃত দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এ সময় শহীদ মেহেদী হাসানের মা প্রশ্ন রাখেন, দুই বছর পার হলেও তার সন্তানের হত্যার বিচার কেন সম্পন্ন হয়নি। শহীদ আলিফের পিতা গাজিউর রহমান বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা কোনো পদ-পদবী বা মতার জন্য আন্দোলন করেননি; তারা কেবল দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। অথচ দুই বছর পরও তার সন্তানের হত্যা মামলার কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি বলে তিনি ােভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশির, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দেিণর সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। এতে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাইযোদ্ধা এবং ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



